বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নারীর দুর্বিষহ জীবনগাথা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ১১:৩৮ পিএম

পরিবারে একটু সচ্ছলতা আনতে অনেক নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন, এখনো অনেকে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। কিন্তু কষ্টের প্রবাস থেকে ফিরেও জীবনখাতায় একইরকম শূন্য দেখছেন বেশিরভাগ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৪ দেশে বাংলাদেশের নারীশ্রমিক কাজ করছেন। তারা কী অবস্থায় রয়েছেন, কোথায় কোন ধরনের কাজ করতে হচ্ছে, তা জানে কোনো কর্তৃপক্ষ? এ ছাড়া ৮৫ শতাংশ তাদের বর্তমান কাজ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত এবং ৫৭ শতাংশ তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে চিন্তিত। ৫২ শতাংশ নারীশ্রমিক বিদেশে জবরদস্তিমূলক শ্রমের শিকার হয়েছেন, ৬১ শতাংশ বিদেশে খাদ্য ও পানির অভাবে ভুগেছেন, ৭ শতাংশ যৌন এবং ৩৮ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

দুচোখে স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায়, গত এপ্রিলে প্রায় ৩৪০ জন নারী অভিবাসী দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তারা বিদেশ যাচ্ছেন, সেই   সব এজেন্সিগুলো আসলে কোন শর্তে নারীদের নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে তা কি কারও জানা আছে? এটা ঠিক, বাংলাদেশের নারীশ্রমিকদের বিদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ছাড়াও ভাষা, সংস্কৃতি ও সেদেশের নিয়মকানুন নিয়ে প্রায়ই ঝামেলায় পড়তে হয়। এই ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে, তাদের জীবনকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ঠিক কতটুকু আন্তরিক, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। না হলে, নারীশ্রমিকের দুর্বিষহ জীবনের কষ্টকথাগুলো তাদের কর্ণকুহরে ঠিকই প্রবেশ করত। একদিকে নারীদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন অন্যদিকে যৌন নির্যাতনের পৈশাচিকতা আমাদের স্তম্ভিত করে।

এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে সোমবার ‘সৌদিতে বিক্রি হয় নারীশ্রমিক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে প্রবাসী নারীদের নির্যাতনের যে কাহিনি উল্লেখ করা হয়েছে, তা যেন এই আধুনিক পৃথিবীতে একবারেই অবিশ^াস্য। যদিও এই ধরনের ঘটনার কথা প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না। যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তারা বিদেশ যান, সেই এজেন্সির কর্তৃপক্ষেরও কোনো ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। ফলে এই ধরনের নির্যাতন ক্রমাগত চলছেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে নির্যাতনের শিকার হয়ে আটকে আছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ভাগনা এলাকার বাসিন্দা স্মৃতি বেগম। তিনি জানান, ‘তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামী অটোরিকশা চালান। সংসারে আর্থিক সংকট লেগেই থাকত। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় দালালের মাধ্যমে গত ২৩ মে সৌদি আরব যান। তাকে শুধু পাসপোর্ট করার টাকা দিতে হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভালো কাজ দেওয়া হবে। মোটা অঙ্কের বেতনও পাবেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই তার জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ যন্ত্রণা।’

স্মৃতি বেগম কান্না করতে করতে বলেন, ‘আমি অনেক অসুবিধায় আছি। যদি পারেন এখান থেকে আমাকে উদ্ধার করেন, আমার জীবনটা বাঁচান।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে এজেন্সি আমাকে এখানে আনছে তারা দেশে পাঠাবে না। তারা আমাকে বলতেছে, তোরে টাকা দিয়ে আনছি কাজ করার জন্য, তোরে কাজ করতে হইব। কিন্তু আমার উপর যে নির্যাতন করতেছে আমার পক্ষে সেখানে কাজ করা সম্ভব না।’

শুধু স্মৃতি বেগম নন, এরকম শত শত নারী আছেন যারা বিদেশে কাটাচ্ছেন দুর্বিষহ জীবন। এই অত্যাচার, অনাচার বন্ধ করতে পারে ঠিক কোন কর্তৃপক্ষ জানা আছে কারও!

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত