গত ২২ আগস্ট দেশ রূপান্তরের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘বিটুমিন চক্রে বিপিসি চেয়ারম্যানের ভাই’ শীর্ষক প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
গত রবিবার বিপিসি সচিবের ই-মেইলে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় লিড নিউজ হিসেবে প্রকাশিত সংবাদটির শিরোনামে ‘বিপিসি চেয়ারম্যানের ভাই’ শব্দগুলো যুক্ত করে বিপিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাকে বর্ণিত চক্রের সঙ্গে একধরনের সম্পৃক্ততার প্রতি ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবেদকের মূল উদ্দেশ্য যদি হতো বিটুমিন ব্যবস্থাপনায় তথাকথিত (প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে) কোনো অশুভ ‘চক্র’কে চিহ্নিত করার জন্যই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিপিসি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকত না; বরং প্রতিবেদকসহ পত্রিকা-কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাত বিপিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতিবেদকের সমগ্র রিপোর্টটি ভালোভাবে পড়লেই এটা স্পষ্ট যে বিটুমিন ব্যবস্থাপনায় অশুভ চক্রকে চিহ্নিত করার নামে বরং বিপিসির চেয়ারম্যানের ‘খালাতো ভাই’য়ের নাম খুব সূক্ষ্মভাবে প্রতিবেদনের শিরোনাম ও ভেতরে উল্লেখ করে ওই চক্রের সঙ্গে বিপিসির চেয়ারম্যানকে জড়ানোর হীন প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিপিসির চেয়ারম্যানের পত্রিকায় বর্ণিত খালাতো ভাই ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন খালাতো ভাই ও সমপর্যায়ের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন যারা চাকরি, ব্যবসাসহ নানান পেশায় যুক্ত। তাদের পেশাগত কোনো কৃতকর্মের জন্য বিপিসি চেয়ারম্যান হিসেবে এ বি এম আজাদকে দায়ী করার এই অপচেষ্টা হলো একধরনের হলুদ সাংবাদিকতা তথা সাংবাদিকতানীতির পরিপন্থী। বিপিসিতে বিটুমিন ব্যবস্থাপনা ও তার সঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যানের বিধিগত সংশ্লিষ্টতা প্রতিবেদককে আলোচনাকালে অবগত করানো সত্ত্বেও প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিটুমিন চক্র নয়; বরং বিপিসি চেয়ারম্যানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হীন চেষ্টা করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে বিপিসির চেয়ারম্যানের সুনাম, মর্যাদা ও সম্মানহানির সঙ্গে সঙ্গে দেশের জ¦ালানি নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত বিপিসির মতো সরকারের একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা করা হয়েছে। এভাবে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা হিসেবে উক্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বিপিসি কর্তৃপক্ষ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিপিসি চেয়ারম্যান তথা বিপিসির বিষয়ে এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি কিংবা ভাবমূর্তি নষ্ট করা প্রতিবদনটির উদ্দেশ্য নয়। এ-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ দেশ রূপান্তরের কাছে আছে। বিপিসির চেয়ারম্যানের বক্তব্যও মূল প্রতিবেদনের পাশাপাশির আলাদা করে প্রকাশিত হয়েছে। চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে এবং প্রতিবাদলিপিতে ইউসুফকে নিজের খালাতো ভাই হিসেবে স্বীকার করেছেন। ইউসুফের স্বীকারোক্তিতেও বিটুমিন কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিপিসি চেয়ারম্যানকে এই ব্যবসার প্লাস পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করে ইউসুফ এই প্রতিবেদককে ব্যবসা বড় করার সুযোগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে প্রতিবাদলিপিতে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি।
চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেছিলেন, বিটুমিনের সঙ্গে ইউসুফের সম্পৃক্ততার কথা জানার পর তাকে বিটুমিন ব্যবসা না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও কোনো প্রমাণ থাকলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। প্রতিবেদনে ইউসুফ যে এখনো এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত, সেটি স্পষ্ট তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ইউসুফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
ইউসুফ ছাড়াও বিপিসির পরিচালক অনুপম বড়ুয়া এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে বিটুমিন কারসাজির অভিযোগ প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও সে বিষয়ে প্রতিবাদলিপিতে কিছু বলা হয়নি।
প্রতিবাদলিপিতে বিটুমিন ব্যবস্থাপনায় অশুভ ‘চক্র’কে তথাকথিত আখ্যায়িত করা হলেও বিপিসি চেয়ারম্যান নিজেই বলেছিলেন, বিটুমিন নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। এতে বিপিসির ইমেজ নষ্ট হয়। এর উৎপাদন যদি বন্ধও হয়ে যায় তাতে বিপিসির কিচ্ছু ক্ষতি হবে না।
