বিরোধী নেতার দৃষ্টিতে রাশিয়া

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩, ১২:১৮ এএম

বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে সম্প্রতি ১৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে রাশিয়ার এক আদালত। সাজা ঘোষণার পর তিনি নব্বই দশকের রাজনীতিবিদদের কড়া সমালোচনা করেন। ওই রাজনীতিবিদদের কারণে পুতিনের জন্য কর্র্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা সহজ হয় বলে মনে করেন নাভালনি। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেড

‘রাশিয়াকে সত্যিকারের গণতন্ত্রে রূপান্তরিত করার যে সুযোগ তারা পেয়েছিলেন, সেটি তারা হাতছাড়া করেন। নিজেদের পকেট ভরতে তারা তাদের সরকারি চাকরির অপব্যবহার করেন।’ এটি রাশিয়ার স্পষ্টভাষী বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক আলেক্সেই নাভালনির লেখা একটি বিবৃতির অংশ। ১১ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেড শিরোনামে বিবৃতিটি পোস্ট করেন তিনি। এর এক সপ্তাহ আগে ‘চরমপন্থার অপরাধে’ তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের শাসন চ্যালেঞ্জ করার প্রতিশোধ হিসেবে তাকে এই সাজা দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক আইনজীবী নাভালনি ব্লগ লিখে বিখ্যাত হয়েছিলেন। রাশিয়ায় চলমান দুর্নীতি তার ব্লগের প্রধান বিষয়বস্তু। তিনি মনে করেন, চোর ও অপরাধীদের হাতে দেশের শাসনভার ন্যস্ত। ২০১১ সালে পুতিনবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের মধ্যে নাভালনি ছিলেন। ২০১৩ সালে মস্কোর মেয়র পদের প্রার্থী ছিলেন তিনি। নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই প্রার্থীকে নিয়ে তেমন কোনো খবরই প্রকাশ করেনি, তা সত্ত্বেও তিনি ২৭ শতাংশ ভোট পান। ৪ আগস্ট আদালতের রায়ের আগে নাভালনি বলেছিলেন, ‘শত শত মানুষকে জেলে পুরে পুতিন লাখো মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন।’

মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেডে ‘তারা’ বলতে রুশ নেতা নাভালনি আসলে কাদের বুঝিয়েছেন? ২৩ বছর রাশিয়া শাসন করা পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র যারা রাশিয়ায় কর্র্তৃত্ববাদী শাসন পুনরুজ্জীবিত করেছেন, ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর খড়গহস্ত হয়েছেন, জর্জিয়া ও ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছেন তারাই কি ‘তারা’? রাশিয়ায় কর্র্তৃত্ববাদী শাসন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নাভালনি লেখালেখি করলেও মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেডের ‘তারা’ কিন্তু পুতিন বা তার মিত্ররা নন। এই ‘তারা’ হলেন রাশিয়ায় প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন, তার মন্ত্রী ও মিত্র যারা দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতি ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পুনরায় নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে সোভিয়েত আমলের বড় প্রকল্প, জ¦ালানি সম্পদ, অবকাঠামো, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বেসরকারিকরণের মাধ্যমে হাতেগোনা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেন।

সাত ব্যাংকার

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে একদল ব্যবসায়ী প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার, শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি প্রদান, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিসহ শোষণমূলক অন্যান্য চর্চার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদের মালিক হন। ওই সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয় রবার ব্যারন। রবার অর্থ ডাকাত আর প্রজাতন্ত্রে ব্যারন বলতে অবৈধ অভিজাততন্ত্রকে বোঝানো হয়। বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়াতেও অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তারা সমাজ ও রাজনীতিতে যে প্রভাব বিস্তার করেন, তার সঙ্গে রবার ব্যারনদের তুলনা সহজে করা যায়। রুশ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সেভেন ব্যাংকার নামে পরিচিত। অসুস্থ ও মদ্যপ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন যখন তার মন্ত্রিসভায় একের পর এক পরিবর্তন আনছিলেন এবং তার জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকছিল, সে সময় সেভেন ব্যাংকাররা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন। তাদের একজন ছিলেন বরিস বেরেজভস্কি। তিনি ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিনকে বোঝাতে সক্ষম হন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অখ্যাত নিরাপত্তা কর্মকর্তা পুতিনকে  নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ইয়েলৎসিন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর রাশিয়ার উদার গণতন্ত্রীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যান। রাশিয়ার উদার গণতন্ত্রীদের অনেকে আজও বরিস ইয়েলৎসিনকেই গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের মতে, তিনি ভুল পদক্ষেপ নিলেও তার অর্জনের তুলনায় সেসব কিছুই নয়। নাভালনি অবশ্য এমনটা মনে করেন না। মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেডে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তাদের সবাইকে অত্যন্ত ঘৃণা করি যারা নব্বই দশকের শুরুতে আমাদের দেশ যে ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছিল, তা নষ্ট করেন।’

নব্বই দশকের পরিস্থিতি

মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেডে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন, তার ছোট মেয়ে তাতিয়ানা ও তার স্বামী ভ্যালেনতিন ইউমাশেভের (তানিয়া ও ভালিয়া নামে অধিক পরিচিত) কড়া সমালোচনা করেন নাভালনি। একই সঙ্গে নব্বই দশকে রাশিয়ার আলোচিত সংস্কারক আনাতোলি চুবাইজ যিনি পরবর্তী সময় কোটিপতি হন এবং দেশটির অন্যতম ঘৃণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন, তাকে নিয়েও সমালোচনা করেন এই রুশ নেতা। নাভালনি লেখেন, ‘আমি ইয়েলৎসিন, তানিয়া, ভালিয়া, চুবাইজ ও বিক্রি হয়ে যাওয়া বাকি পরিবারকে ঘৃণা করি। তারাই পুতিনকে ক্ষমতায় এনেছিলেন।’ ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার পর যে সংবিধান গ্রহণ করেন, তারও সমালোচনা করেন নাভালনি। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ায় রুশ আইনপ্রণেতারা ইয়েলৎসিনকে অভিশংসন করেন এবং পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ব্যারিকেড দেন। প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন তখন ভবনটি ভাঙতে ও আইনপ্রণেতাদের গ্রেপ্তার করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন। সে সময় নাভালনির বয়স মাত্র ১৭। আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তিনি মাই ফিয়ারস অ্যান্ড হেট্রেডে লেখেন, ‘কর্র্তৃত্ববাদী ওই সংবিধানের রচয়িতাদের আমি ঘৃণা করি। এটিকে আমরা বোকারা গণতান্ত্রিক সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করেছি। ওই সংবিধান রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে রাজার ক্ষমতা দেয়।’

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পরিবর্তন

নাভালনি ও তার সমর্থকরা মনে করেন, রাশিয়ার লাখ লাখ মানুষ গণতন্ত্র চান না, কারণ নব্বই দশকের সংস্কারকরা গণতন্ত্রকে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও ভেঙে পড়া স্বপ্নের সমার্থক করে তোলেন। এ বিষয়ে নাভালনির অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফান্ড টু ফাইট করাপশনের (এফবিকে) মুরমানস্ক শাখার প্রধান ভিওলেত্তা গ্রুদিনা বলেন, ‘নব্বই দশকে দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে ছিল না। ক্ষমতায় ছিলেন তথাকথিত গণতন্ত্রীরা যারা নিজেদের স্বার্থে  ক্ষমতাকে ঢেলে সাজান। তারা সংস্কার করছেন বলে দাবি করতেন। আসলে সংস্কারের ধারেকাছে তারা ছিলেন না, যদিও দেশের তখন সংস্কারের যথেষ্ট প্রয়োজন ছিল।’ ২০২২ সালে রাশিয়া ছেড়ে পালিয়ে যান গ্রুদিনা। তার আগে তিনি নির্যাতনের শিকার হন, গ্রেপ্তার হন। তাকে জরিমানাও করা হয়। রাশিয়ায় গ্রুদিনা যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, তাতে গুলি চালানো হয়, তার অফিস ভাঙচুর করা হয়। গ্রুদিনা বলেন, ‘নব্বই দশকে রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণ ছিল আর্থিক অর্জন ও ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি। শুরুতে কোনো স্বাধীনতা ছিল না। ক্ষমতায় যেতে অভিজাতরা কামড়াকামড়ি করছিলেন। এসব কারণে রুশদের গণতন্ত্রের প্রতি কোনো আস্থা নেই। গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ ক্ষমতালিপ্সুরা বিকৃত করেছেন।’

ক্ষোভ প্রকাশ

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা নাভালনির বিবৃতি নব্বই দশকের সামনের সারির নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ করেছে। ইয়েলৎসিনের উপপ্রধানমন্ত্রী আলফ্রেড কোচ পুতিনশাসিত রাশিয়ায় চাপে পড়ার একপর্যায়ে ২০১৫ সালে জার্মানি পালিয়ে যান। তিনি নাভালনির বিবৃতিকে ‘কুরুচিপূর্ণ, সেকেলে ও অন্ধ ভক্তদের জন্য লেখা’ হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে রাশিয়ার একসময়ের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মিখাইল খোদোরকভস্কি যিনি পুতিনের সঙ্গে বিবাদের জেরে ১০ বছর জেলে ছিলেন, তিনি নাভালনির বিবৃতিকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে বিস্তারিত কিছু বলা থেকে বিরত থাকেন খোদোরকভস্কি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নাভালনির বিবৃতিকে লোকরঞ্জনবাদী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশেই বিরোধীদলীয় নেতা ওই বিবৃতি দিয়েছেন। নাভালনি যদি কখনো প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করেন, তাহলে তিনি তাদের কাজে লাগাতে পারবেন। জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিকোলে মিত্রোখিন বলেন, ‘অনলাইনে বিবৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে নাভালনি কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে প্রচারণা চালানো অব্যাহত রেখেছেন। গত ১০ বছর ধরে কমিউনিস্ট পার্টির কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।’ ২০২১ সালে সংসদীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেন কমিউনিস্ট পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা। ওই নেতাদের সমর্থন দিতে নিজের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন নাভালনি। ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ প্রবাদটিকে মাথায় রেখে তিনি ওই আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিত্রোখিন বলেন, ‘নাভালনির ওই চেষ্টা অবশ্য ব্যর্থ হয়েছিল কারণ তার কমিউনিস্ট আইনপ্রণেতাদের বেশির ভাগই পরবর্তী সময় পুতিনপন্থি ও যুদ্ধবাজ হিসেবে উন্মোচিত হন।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, নব্বই দশকে সংস্কারকদের কয়েকজন লোভনীয় কাজ পেতে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাতে জোর দিয়ে নাভালনি ঠিক কাজ করেছেন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্ট্রাল এশিয়া ডিউ ডিলিজেন্সের প্রধান আলিশার ইলখামভ বলেন, ‘নব্বই দশকের নেতারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, একই সঙ্গে তারা নিজেদের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিতেও রূপান্তরিত করতে চান। তাদের এই দ্বিচারী মনোভাব রাশিয়ার আজকের সমস্যার অনেক শেকড়ের একটি।’

ইয়েলৎসিনের পক্ষে-বিপক্ষে

যারা নব্বই দশকের সংস্কার নিজের চোখে দেখেছেন, তারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিনের অর্জন অবমূল্যায়ন করেছেন নাভালনি। ওই সময় দেশ যে এগিয়ে গিয়েছিল, তা নাভালনি স্বীকার করতে চান না। রাশিয়ার বিরোধী শিবিরের পলাতক অ্যাক্টিভিস্ট সের্গেই বিজুকিন বলেন, ‘নব্বই দশকে বাজার অর্থনীতির পথে দেশ প্রথম হাঁটতে শুরু করে। এ কারণে রাশিয়া আজও টিকে আছে।’ ১৯৯৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিজুকিন বলেন, ‘ইয়েলৎসিন এমন এক সংসদীয় ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন যেখানে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতো।’ ওই নির্বাচন নিয়ে অবশ্য বিতর্কও আছে। বিজুকিনের মতো ব্যক্তিরা ১৯৯৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সুষ্ঠু মনে করলেও সবাই তা মনে করেন না। আন্তর্জাতিক অনেক পর্যবেক্ষক সে সময় দাবি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে আসলে কমিউনিস্ট প্রার্থী গেনাডি জিউগানভ জিতেছিলেন, বরিস ইয়েলৎসিন নন। কিন্তু তাদের দাবি আমলে নেয়নি পশ্চিমারা, কারণ তারা চায়নি রাশিয়ার ক্ষমতায় ফের কমিউনিস্টরা আসুক। বিজুকিন বলেন, ‘প্রথম চেচেন যুদ্ধের ডাক দিয়ে হেরে যাওয়া, সরকারি চাকরি থেকে সাবেক কমিউনিস্ট ও কেজিবি এজেন্টদের বহিষ্কার করতে রাজি না হওয়া এমন অনেক ভুল পদক্ষেপ ইয়েলৎসিন নিয়েছিলেন। তবে এসব ভুল বিবেচনায় নেওয়ার পরও ইয়েলৎসিন তার শাসনামলে যা করে গেছেন, সেসব করা সহজ ছিল না।’ ফান্ড টু ফাইট করাপশনের কসত্রোমা ব্রাঞ্চের প্রধান আলেকসান্দার জিকভ বলেন, ‘নব্বই দশকের রাজনীতিবিদ ও চিন্তকরা প্রযুক্তিগত কর্র্তৃত্ববাদের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা আজকের রাশিয়াকে গ্রাস করছে। নব্বই দশক নিয়ে আলেক্সেই নাভালনি ও তার সমর্থকদের মূল আদর্শগত বয়ান হলো, ক্ষমতা বলতে ক্রিয়া বোঝায়। এটি সম্পদশালী হওয়ার কোনো মাধ্যম নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত