কক্সবাজারের চকরিয়া থানার বাসিন্দা মো. আনিস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। তিনি নিয়মিত ট্রাকের ভেতর বিশেষ কায়দায় ইয়াবা এনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে তাকে ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ (ডিবি)। এ ঘটনায় ডিএমপির রমনা মডেল থানায় হওয়া মামলার তদন্তে নেমে অবৈধ অস্ত্র কারবারে জড়িত একটি চক্রের খোঁজ পায় ডিবি।
ডিবি বলছে, চক্রটি মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল। চক্রের হোতা টেকনাফে বসে অস্ত্রের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। তার লোকেরা সারা দেশে সরবরাহ করে অস্ত্র। চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে কারবার নিয়ন্ত্রণ করে।
জানতে চাইলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) বার্নার্ড এরিক বিশ্বাস দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেন, ‘ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর আমরা বড় একটি অস্ত্র কারবারি চক্রের সন্ধান পেয়েছি। এ চক্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার তথ্য পাওয়ার পর আমরা ছয়জনকে গ্রেপ্তার করি। পরে জানতে পারি তারা ছাত্রদলের নেতা।’
তবে গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখানো ছাত্রদলের ওই ছয় নেতা নিখোঁজ ছিলেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। দলটি দাবি করে, এক নেতাকে খুঁজতে গিয়ে আরও পাঁচ নেতা নিখোঁজ হন। পরবর্তী সময়ে তাদের অস্ত্রসহ আটকের নাটক সাজায় পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র কারবারের এ চক্রটির দলনেতা টেকনাফের মুন্না ওরফে মামা এবং পাবনার আরিফ বঙ্গাল। তারা মাদকের সঙ্গে অস্ত্রের চালান পাঠায়। অস্ত্রের অর্ডার নেয় বিভিন্ন অ্যাপসে। এসব অস্ত্রের দামও সস্তা। ক্ষেত্রবিশেষ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে এসব অস্ত্র বেচাকেনা হয়।
তদন্ত সূত্র বলছে, মাদকসহ মো. আনিস উদ্দিনকে মগবাজার থেকে আটকের পর একটি অডিও রেকর্ড পায় ডিবি। যেখানে বলতে শোনা যায়, ‘একটি মাল রেখে আসিছ।’ এর সূত্রেই অস্ত্রের সন্ধান পায়।
ডিবি দাবি করেছে, ছাত্রদলের ওই ছয় নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাদের ফোন ঘেঁটে ডিবি জানতে পেরেছে, গত ২১ জুন থেকে বিভিন্ন সময় এসব অস্ত্রের সরবরাহ হয়। ১১টি অস্ত্র কেনার কথা থাকলেও আটটি নেওয়া হয়েছে। এ মধ্যে পাঁচটি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আরও কিছু অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে। আমরা সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। আমরা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে আসামি গ্রেপ্তার করিনি।’
ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ডিবি অস্ত্রধারী ও অস্ত্র কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। এটা চলমান থাকবে। অস্ত্রধারীরা কোনো দলের হতে পারে না।
