পুরনো ইট-রাবিশে দরপত্র ছাড়া সড়ক ও পার্কিং স্পেস

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:৩৪ এএম

দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সড়ক ও পার্কিং স্পেস তৈরির কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। নতুন ইট-রাবিশে কাজ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ব্যবহার করছে পুরনো ইট-রাবিশ। গণপূর্ত অধিদপ্তরসংলগ্ন গণপূর্ত রমনা স্টোরের সড়ক ও পার্কিং স্পেস তৈরিতে এসব করা হচ্ছে।

জানা গেছে, রমনা পার্কের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মারজিয়া এন্টারপ্রাইজ রমনা স্টোরের সড়ক ও পার্কিং স্পেস তৈরির কাজ করছে। পুরনো ইট-রাবিশে রমনা স্টোরের ম্যাকাডাম তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কিছুদিনে পিচ ঢালাই দেওয়া হবে।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গণপূর্তের রমনা স্টোরের সড়ক ও পার্কিং স্পেস তৈরির কাজ করছে শ্রমিকরা। পুরনো ইট-রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘কন্ট্রাক্টর যেভাবে বলেছেন আমরা সেভাবে কাজ করছি। নতুন ইট-রাবিশ দিলে ব্যবহার করতাম, দিয়েছে পুরনো ইট-রাবিশ, তাই ব্যবহার করছি।’

মারজিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রমনা পার্কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পুরনো ইটগুলো আমি কিনে নিয়েছি। গণপূর্ত আমাকে বলেছে রমনা স্টোরের সড়ক ও পার্কিং স্পেস তৈরি করতে। আমার কাছে যে ইট ছিল তা দিয়েই কাজ শুরু করেছি। ইট-রাবিশগুলো পুরনো হলেও ভালো আছে। তাই ব্যবহার করছি।’

তিনি বলেন, ‘দরপত্র ছাড়া কাজ করা যায় না এটা কে বলেছে? গণপূর্তের সিটি ডিভিশনে এমন অনেক কাজ হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে এসব কাজ করা হয়। কাজটি খুব বড় নয়, ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি হবে না।’

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রমনা পার্কের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ওই জায়গার কিছু পুরনো ইট-রাবিশ ছিল, সেগুলো রমনা স্টোরের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর জন্য আলাদা খরচ ধরা হবে না।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেনা ইট-রাবিশ ব্যবহার করছেন কেন? জবাবে প্রকৌশলী বলেন, ‘বিষয়টি তো এমন হওয়ার কথা নয়।’ এরপর কোনো কথা না বলে ব্যস্ততার অজুহাতে টেলিফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।

গণপূর্তে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে অনিয়ম নতুন কিছু নয়। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। রমনা স্টোরের সড়ক ও পার্কিং স্পেসে পুরনো ইট-রাবিশ ব্যবহার এমনই একটি ঘটনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত