বাংলাদেশে রেল, শিল্প এবং বিভিন্ন খাতে ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ চায় জাপান। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য শিগগিরই জেট্রো নেতাদের সঙ্গে আলাপ করবে দেশটির বাংলাদেশ সফররত সংসদ সদস্যরা। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংসদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে এমন প্রায় ৭১ শতাংশ জাপানি কোম্পানি অসন্তুষ্ট, এমন একটি জরিপের ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জাপান সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য ও জাপানের বিদেশি সহায়তা কমিটির (ওডিএ) প্রধান নাকানিশি ইয়োসুকে বলেন, ‘জাপানি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে আরও ভালো বিনিয়োগের পরিবেশ চান। পরশু (মঙ্গলবার) আমরা জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সভা করব। সেখানে আরও বিস্তারিত শুনব।’
নাকানিশি ইয়োসুকে আরও বলেন, ‘৫০ বছর ধরে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। এ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান সহায়তা করছে। জাপানের সহায়তায় ঢাকা মেট্রোরেল ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট চালু হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ ভালো করছে। এখন আমরা বাংলাদেশে ভ্যালু চেইন নিয়ে কাজ করছি।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাকানিশি ইয়োসুকে বলেন, ‘আগামী কাল আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করব। সেখানকার মানবিক সহায়তার পর্যালোচনা করে জাপানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’ এ ছাড়া দেশে অবস্থানরত জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে প্রতিনিধিদল। এ সময় দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নতি করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তারা। ডিজিটালাইজেশন সামাজিক নিরাপত্তাসহ দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও নিবিড় সম্পর্ক চেয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাপান আমাদের ভালো বন্ধু। মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২ লাখ রোহিঙ্গা সদস্যকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তাদের সহায়তা চেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। বিনিয়োগের বিষয়ে তখন হয়তো কথা হবে। আর আজকে (রবিবার) পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্র দুই মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনে গেছেন তারা।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, এই প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেছে। যেহেতু তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে মিলে যায় তাই জাপানের কথা মিয়ানমার শুনতেও পারে।
রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়ে তাদেরও কোনো আগ্রহ ছিল না, আমাদেরও নেই। তাই কোনো কথা হয়নি এসব বিষয়ে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘জাপান আমাদের মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে সহযোগিতা করছে। ভবিষ্যতে রেলসহ অন্যান্য খাতে সহায়তা থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাকানিশি ইকো, ডিরেক্টর অব দ্য কমিটি অন জেনারেল অ্যাফেয়ার্স হাউজ অব কাউন্সিলর ইমি ইরিকো ডিরেক্টর অব অ্যাডুকেশন মিউরা নব হিরু, মিনাগায়া কেনিচি, নিশোমাসুমি।
