কমিশন বৃদ্ধির বিশ্বাসযোগ্য আশ্বাসে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী, ট্যাংক-লরি মালিক ও শ্রমিক নেতারা তাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন স্বাভাবিক হলো। গতকাল রবিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া এবং ধর্মঘটে যাওয়া তেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংক-লরির অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করা এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের কমিশন এজেন্ট হিসেবে গেজেট প্রকাশ করার দাবিতে গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জ¦ালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ডাক দেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
ধর্মঘটে যাওয়া সংগঠনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংক-লরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।
ধর্মঘটের খবর শুনে শনিবার রাত থেকেই বিভিন্ন পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। গতকাল সকালে অনেকেই বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে বিপিসির ঢাকা অফিসে ধর্মঘটে যাওয়া তিন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিপিসি। বৈঠক শেষে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের (ধর্মঘটী) বেশিরভাগ দাবিই পূরণ করেছে সরকার। বাকি দাবি বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এ মাসেরই মধ্যেই সব দাবি পূরণ হবে এমন আশ^াসে তারা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে বিভিন্ন সময়ে সরকার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু এবারের আশ^াস আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে, তাই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সেজন্য আমরা দুঃখিত।’
