আফ্রিকায় ভাগনারের গুরুত্ব

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:০৯ এএম

আফ্রিকায় বিদ্রোহ দমানো থেকে শুরু করে খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ভাগনারকে ব্যবহার করে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সুদানসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকারের হয়ে কাজ করে যাচ্ছে ভাগনার। মহাদেশটিতে প্রভাব ধরে রাখার জন্য রাশিয়ার ভাগনারকে দরকার। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

ভাগনারের শুরু

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে ব্যবস্থা কায়েম করেছেন, তারই প্রতিফলন ভাগনার গ্রুপ। ভাড়াটে সেনা সরবরাহকারী এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কী জানতে হলে আগে বোঝা জরুরি ভাগনার কী ছিল। ভাগনার যেসব কাজ করে আসছে, তা নতুন নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, অতীতে বিভিন্ন সময় ভাড়াটেরা অন্যের হয়ে লড়াই করেছিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের প্রাক্কালে সৃষ্ট বেসরকারি আধা-সামরিক বাহিনী ফ্রি কর্পস ও সামন্ততান্ত্রিক জাপানের রনিনরা (প্রভুর মৃত্যুর পর সামুরাই রনিনে পরিণত হন)। তবে ভাগনারের সেনারা তাদের থেকে আলাদা। রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা দিমিত্রি আতকিন স্ল্যাভোনিক কর্পস নামে এক ভাড়াটে সেনাদলের সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালের দিকে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সেবা সংস্থা এফএসবির সঙ্গে স্ল্যাভোনিক কর্পসের মতানৈক্য দেখা দেয়। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর আতকিনকে ইউক্রেনে দেখা যায়। সেখানে তিনি স্ল্যাভোনিক কর্পসের সাবেক ভাড়াটেদের নিয়ে গঠিত এক সেনাদলের নেতৃত্বে ছিলেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়েভগেনি গ্রিগোজিন ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই সেনাদলকে নিয়ে বেসরকারি সামরিক কোম্পানি (পিএমসি) গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করেন। এই পিএমসিই পরবর্তী সময় ভাগনার গ্রুপে রূপ নেয়। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সেবা সংস্থা এফএসবির কাজ ছিল স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের সরকারকে সংগঠিত করা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দিমিত্রি আতকিন ভাড়াটে সেনাদল ও সেনাবাহিনীর যৌথ কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন। লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকে ওই সময় দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের চেয়ে বেশি ভাড়াটে সেনাদলের দরকার পড়েছিল কারণ লুহানস্কে শিল্পপ্রতিষ্ঠান দোনেৎস্কের চেয়ে বেশি ছিল। আতকিনের নিয়ন্ত্রণাধীন সেনারা এ জন্য লুহানস্কে বেশি সক্রিয় ছিল।

প্রিগোজিনও সে সময় লুহানস্কে সক্রিয় ছিলেন। সেখানে তিনি পশ্চিমা স্টাইলে কাজ করা পিএমসির সম্ভাবনা দেখতে পান। প্রিগোজিনের আহ্বানে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ওই প্রকল্পে অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। ওই কর্মকর্তারা রুশ সরকার অনুমোদিত প্রতিনিধি ছিলেন না। ভাগনারের উত্থান হয়েছিল রুশ সরকারের প্রয়োজন থেকে। প্রয়োজনটা হলো ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসের সামনে স্থানীয় দুর্বল মিলিশিয়া, যাতে ভেঙে না পড়ে এ লক্ষ্যে সব রকমের সামরিক সহায়তা প্রদান। প্রিগোজিন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি ছাড়াও রাশিয়া রাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন সংস্থা লুহানস্ক ও দোনেৎস্কে সেনাবাহিনী ও ভাড়াটে সেনাদলকে একসঙ্গে কাজ করাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ভাগনার ও রাশিয়া রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভরশীল ছিল। উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ সালের কথা বলা যায়। ওই বছর রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে ভাগনার সিরিয়ায় সক্রিয় ছিল। সিরিয়ার পালমিরা শহর জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখলমুক্ত করেছিল ভাগনারের সেনাদল। ওই ঘটনার পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু সিরিয়া থেকে ভাগনারকে প্রত্যাহারের ওপর জোর দিতে থাকেন। ভাগনারের সেনাদল ওই সময় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র জমা দেয়।

ভাগনারের বিশেষত্ব

ওই ঘটনার পর এভরো পোলিস নামে নতুন এক কোম্পানি গঠন করেন প্রিগোজিন এবং একই সঙ্গে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ মুনাফার বিনিময়ে দেশটির তেলক্ষেত্রগুলো দখলমুক্ত করবে ভাগনার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আইএস পালমিরা থেকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করে। শহরটি পুনরায় দখলে নিতে ভাগনারকে নির্দেশ দেয় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভাগনারকে অস্ত্র দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। রুশ জেনারেল আলেকসান্দার দিভরনিকভ পালমিরা পুনর্দখলের লড়াইয়ে ভাগনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষুব্ধ হন প্রিগোজিন। তিনি তার অর্থাৎ ভাগনারের সেনাদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে নেন। পরে অবশ্য চাপে পড়ে ভাগনার ফের লড়াইয়ে অংশ নেয়।

সিরিয়ার ঘটনাটি রুশ ব্যবস্থার বিশেষত্ব সামনে নিয়ে আসে। রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোর অধীনে কাজ করছিল ভাগনার। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সামরিক ঠিকাদারি সংস্থা ব্ল্যাকওয়াটারও দেশটির সামরিক বাহিনীর অপরিহার্য অংশ। তবে ব্ল্যাকওয়াটারের ম্যান্ডেট সম্পূর্ণ আলাদা। তারা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরিবর্তে বা সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে যায় না। অন্যদিকে রুশ সেনাবাহিনীর পরিবর্তে বা তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইতিহাস ভাগনারের শুরু থেকেই। এদিকে রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব বিস্তারের স্বাধীনতা প্রিগোজিনকে বিদেশি সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করতে সহযোগিতা করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে বিদেশি সরকারের সঙ্গে প্রিগোজিন চুক্তি করেছেন, রুশ সরকারের সঙ্গে ওই সরকার আগেই প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। এর অর্থ দাঁড়াল, রুশ সরকারের চুক্তি কখনো প্রিগোজিনের চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাধা হয়নি।

অবশ্য রাশিয়ার ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষায় দেশের বাইরে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতে কেবল প্রতিরক্ষা নয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল প্রিগোজিনের এবং সেই প্রয়োজন মেটানোও হয়। ২০১৭ সালে সুদানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে বাঁচতে রুশ সরকারের কাছে আহ্বান জানায়। আফ্রিকা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সের্গেই এলেদিনভ বলেন, ‘নিজের সেনাবাহিনীকে সুদানে পাঠানো সম্ভব ছিল না রুশ সরকারের। রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকদের হাতে সে সময় একটিই বিকল্প ছিল এবং তা হলো ঠিকাদারদের আফ্রিকার দেশটিতে পাঠানো।’

আফ্রিকায় ঠিকাদারি

আফ্রিকায় ঠিকাদারদের ব্যবহার সাধারণ ঘটনা। যেমন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের জন্য আমেরিকান বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার কোম্পানি ডাইনকর্পকে ভাড়া করেছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে অগ্রাধিকার মনে করলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নিজেই লাইবেরিয়ায় সেনা পাঠাত। ২০১৭ সালে মধ্য আফ্রিকার দেশ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের (সিএআর) অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মতানৈক্য দেখা দিলে ফরাসি কূটনীতিকরা সিএআর প্রেসিডেন্ট ফস্টিন-আরচেঞ্জ টুয়েডেরাকে রাশিয়ার সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তিনি রাশিয়ায় সিএআর কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠান এবং দেশটিতে অস্ত্র ও প্রশিক্ষক পাঠানোর চুক্তি করেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকেই ভাগনার প্রথম লাভরভকে কূটনীতিতে জিততে সহযোগিতা করে। প্রাকৃতিক সম্পদের পাহারাদার হিসেবে তারা সেখানে আগে থেকে অবস্থান করছিল। ২০১৯ সালে ভাগনার ও প্রিগোজিনের মধ্যস্থতায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সরকার ও ১৪ সশস্ত্র সংগঠন শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা খার্তুম অ্যাকর্ড নামে পরিচিত। চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও ওই শান্তিচুক্তিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজও সমর্থন করে।

২০২০ সালে দিমিত্রি আতকিন সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান। তিনি প্রশিক্ষকদের ভাগনারের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে বলেন। সিএআর অভিযানের নেতা ভ্যালেরি জাখারভ দেশটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে ঠিকাদারের সংখ্যা রাতারাতি কয়েকশ থেকে দুই হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। গোটা মিশন সে সময় বিদ্রোহবিরোধী অভিযানে রূপ নেয়। ফলে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের বেশির ভাগ বড় শহর সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং সশস্ত্র সংগঠনগুলো অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। বিদ্রোহবিরোধী অভিযান দেশটির সঙ্গে ভাগনারের সম্পর্ক মজবুত করে। উভয় পক্ষের সামনে সৃষ্টি হয় নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ। 

আফ্রিকায় ভাগনার বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করলেও কখনোই তা স্বীকার করে না ক্রেমলিন। সম্প্রতি ব্লুবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের স্বর্ণ খনি থেকে প্রতি বছর ২৯০ মিলিয়ন ডলার আয় করে ভাগনার। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্য আফ্রিকার প্রকল্প পরিচালক এনরিকা পিকো বলেন, ‘ভাগনারকে দিয়ে রুশ সরকার আফ্রিকায় শক্তিশালী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, যার ফলে ওই মহাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার সহজ হয়েছে। রাশিয়া সেখানে এমন ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে, কোনোদিন যদি দেশটির অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তারপরও সেই ব্যবস্থার কোনো পতন হবে না। ক্রেমলিন যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যবস্থাটির চাকা সচল রাখবে, বন্ধ হতে দেবে না।’

শক্তিবৃদ্ধি

কেবল সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক নয়, আফ্রিকার যেসব দেশে চলমান লড়াইয়ে ভাগনার হস্তক্ষেপ করেছে, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়। ভাগনার কখনো এক নীতি অবলম্বন করে না। দেশভেদে তাদের অভিযান ভিন্ন হয়। মালিতে ভাগনার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের তুলনায় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হয়। সেখানকার স্থানীয় নেটওয়ার্ক সম্পদের ওপর কর্র্তৃত্ব ছাড়তে রাজি নয়। অন্যদিকে সুদানে ভাগনারের মিশন কখনো বিদ্রোহবিরোধী অভিযানে রূপ নিতে পারেনি। লিবিয়ার রাজনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল খলিফা হাফতারের পক্ষেও ভাগনারকে কাজ করতে দেখা যায়। সুদানে গৃহযুদ্ধের সময়ও ভাগনারের সম্পদ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। দেশটির আধা সামরিক সংস্থা র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের ঘনিষ্ঠ রুশ এই ভাড়াটে সেনাদল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। সুদানের সেনাবাহিনী ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস উভয়ের সঙ্গে ভাগনার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। আফ্রিকায় ভাগনার একটা সময় পর রাষ্ট্রসমর্থিত সত্তা থেকে রাষ্ট্রের ন্যায় সত্তায় পরিণত হয়। তবে ইউক্রেনে প্রতিষ্ঠানটিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। গত বছর দেশটিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর প্রিগোজিনকে অতীতে মোকাবিলা করা প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হতে হয়। এই প্রতিপক্ষ হলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে প্রিগোজিনের সম্পর্ক তিক্ত হতে থাকে। শোইগু ও গেরাসিমভ যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন, তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না প্রিগোজিন। শোইগু ও গেরাসিমভ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও  প্রিগোজিনের মধ্যকার দূরত্ব বাড়াতে থাকেন এবং এরই জেরে বিদ্রোহের ডাক দিয়ে বসেন প্রিগোজিন। শোইগু ও গেরাসিমভকে পদ থেকে সরাতে জুনে ওই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এর জন্য প্রিগোজিনকে অবশ্য চড়া মূল্য দিতে হয়। বিদ্রোহের দুই মাস পর বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারান তিনি। তার মৃত্যুর পর রুশ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ও পুতিনের সাবেক বক্তৃতা লেখক আব্বাস গালিয়ামভ বলেছিলেন, ‘বিদ্রোহের ডাক দিয়ে পুতিনকে দেশে-বিদেশে অপমান করেছিলেন প্রিগোজিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে বিরাট এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। দুই মাস ধরে রাশিয়ায় সবকিছু ওলট-পালট ছিল।’

প্রিগোজিনের মৃত্যুতে ভাগনারের আফ্রিকা অভিযান থেমে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। সম্ভবত ক্রেমলিন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা আগ্রহী অন্য খেলোয়াড় ওই মহাদেশে ভাগনারের লাভজনক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। যাই ঘটুক মূল বিষয় হলো, আফ্রিকায় রাশিয়া রাষ্ট্রের ভাগনারকে দরকার। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্যেও এটি স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, মালি ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে ভাগনারের অভিযান চলবে। ভাগনার এমন এক প্রতিষ্ঠান যার কোনো স্থায়ী গঠন নেই। এটি পরিবর্তিত হয়। পরিবেশ-পরিস্থিতি ওপর ভিত্তি করে এটি দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত