ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা নয়ন খানের অবহেলাজনিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের তিন সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নয়ন খান নামের এক ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগ থেকে তাকে হাসপাতালের সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্বজনরা নার্সকে জরুরি চিকিৎসা দিতে বলেন। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে উত্তেজিত হন স্বজনরা। কিছুক্ষণ পর একজন চিকিৎসক এসে দেখেন রোগী মারা গেছে। এ নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্য ১৮ জন আহত হন। তাদের মধ্যে রোগীর স্বজনদের চার এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক তিনজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কোতোয়ালি থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পুলিশ রোগীর স্বজনদের তিনজনকে আটক করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত স্বজন আলমগীর বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার নানা ডাক্তারদের অবহেলায় মারা যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই পরিবার-পরিজন একটু উত্তেজিত হয়ে পড়ি। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বহিরাগত ও মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং নার্সরা প্রায় ২০ থেকে ৪০ জন একসঙ্গে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলাপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসিবুল জানান, মুক্তিযোদ্ধা নয়ন খান নামের এক ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্বজনরা আমাদের কাছে এসে রোগীকে দেখার কথা বলেন। এরপরই ডা. সাব্বির দ্রুত তার হাতে থাকা রোগীকে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। ঠিক সে সময় রোগীর এক স্বজন এসেই ডাক্তারের কলার চেপে ধরেন। ওই সময়ে শুরু হয় ডাক্তার এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা নার্সদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দিয়ে মারতে শুরু করে আমাদের।’
পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আটক তিনজনের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
