আগামী বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী নির্বাচনের এখনো বাকি চার মাস। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর-সদরের আংশিক) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী ঘোষণা করে তার জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহীদ (ভিপি শহীদ)।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে ‘আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনাব মমতাজ বেগম এমপিকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ লিখে একটি পোস্ট দেন। যাতে নৌকা প্রতীকও ব্যবহার করা হয়। এতে মমতাজ সমর্থকরা উৎফুল্ল হলেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, এ পোস্টের কারণে দলীয় কোন্দল আরও বাড়বে।
এ ব্যাপারে মো. শহিদুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গ্রিন সিগন্যালের (সবুজ সংকেত) ভিত্তিতে আমার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট দিয়েছি।’
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া এ পোস্ট নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ও দায়িত্বশীল নেতারা। সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার মনোনয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। এমপি মমতাজ কানাডাতে অবস্থান করছেন। এই মুহূর্তে এমন পোস্ট জনগণকে বিভ্রান্ত করা ও বাটপারি ছাড়া কিছুই নয়।’
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সিংগাইর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, ‘মনোনয়ন দেবেন শেখ হাসিনা। সে ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের মতামত উপেক্ষা করে কেউ যদি এটা করে (মমতাজকে প্রার্থী ঘোষণা), তবে তা জাতীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হবে।’
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু বলেন, ‘নির্বাচনের সময় এখনো অনেক বাকি। যারা এ ধরনের অপপ্রচার চালায় তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।’
এ প্রসঙ্গে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল বলেন, ‘উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শহীদ যে কাজটি করেছেন, একই কাজ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন সাহেব প্রকাশ্যে চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে অন্য একজনকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। সবাই সংগঠনবিরোধী কাজ করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একটি পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে, সেই বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একমাত্র দলের পক্ষে থেকে মনোনয়ন দেবেন। এরা (প্রার্থী ঘোষণাকারীরা) শুধু চাটুকারিতা করছেন।’
সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
