মুখ বেঁকে যাওয়া রোগে কী করবেন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:২৯ এএম

রোগের নাম বেলস পলসি। সাধারণত ঋতু পরিবর্তন অর্থাৎ গরমকাল থেকে শীতকাল পড়ার সন্ধি সময়টাতে এই রোগ বেশি দেখা যায়। বেলস পলসি মুখের পেশির প্যারালাইসিস। অর্থাৎ বেলস পলসি হলো এমন একটি অবস্থা, যা মুখের পেশীগুলোর অস্থায়ী দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত ঘটায়। মস্তিষ্ক থেকে আসা ৭ নম্বর ক্রেনিয়াল নার্ভের নাম ফেসিয়াল নার্ভ, যা মুখের পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে গেলে তাকে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা বেলস পালসি বলে। যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ রোগের কারণ এখনও অজানা। এই রোগের বা ভাইরাসের প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে। আবার এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিও খুবই সহজ। ফিজিওথেরাপিই হচ্ছে এর প্রধান চিকিৎসা।

স্কটিশ অ্যানাটমিস্ট চার্লস বেলের এই রোগের নামকরন করা হয়েছে।

লক্ষণ

মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া।

কুলি করলে মুখের এক পাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়া।

এক চোখ বন্ধ করতে না পারা এবং চোখ দিয়ে পানি পড়া।

মুখের এক পাশে খাবার জমে যাওয়া।

অনেকের মাথা ও ঘাড় ব্যথা হতে পারে।

চিকিৎসা

এই রোগ হলে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে ভাবেন খারাপ বাতাস লেগেছে বা কারও অভিশাপ লেগেছে। কেউ ভাবেন স্ট্রোক হয়েছে। স্টেরয়েড, অ্যান্টি ভাইরাস জাতীয় ওষুধের সঙ্গে ফিজিওথেরাপি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে বেশির ভাগ রোগী এক থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।

সতর্কতা

ঠান্ডা পরিবেশে এই ভাইরাস প্রভাব বিস্তার করে। তাই সরাসরি ফ্যান বা এসির বাতাস এড়িয়ে চলুন। বেলস পলসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার আগে বেশি রাত অবধি ঠান্ডা বাতাসে কাজ করেছেন বা ভ্রমণ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত