শাটল ট্রেনে দুর্ঘটনা, ভিসির বাসভবনে ভাঙচুর

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:২৫ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের ছাদে হেলে পড়া গাছের ডালের ধাক্কা লেগে কমপক্ষে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের বটতলী স্টেশন থেকে ছেড়ে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেন ফতেয়াবাদ স্টেশনের কাছে পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নয়জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে গতকাল শুক্রবার নেওয়া হয়েছে চমেকের আইসিইউতে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কয়েক ঘণ্টা চবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক ক্লাব, পুলিশ বক্স এবং বেশকিছু বাস, মোটরসাইকেল ও কার ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের বটতলী স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শাটল ট্রেন রাত সোয়া ৯টায় চৌধুরীহাট স্টেশন এলাকায় এলে হেলে পড়া গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ট্রেনের ছাদে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায়। এ ছাড়া কয়েকজন চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। আহতদের মধ্যে নয়জন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আর গুরুতর আহত তিনজনকে গতকাল সকালে নেওয়া হয় চমেকের আইসিইউতে।

দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আহতের খবরে রাত ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্যের বাসভবনের তিনতলা ভবনের প্রত্যেকটি কক্ষে ভাঙচুর করেন বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়াও পরিবহন দপ্তরের ২২টি বাস, একটি মোটরসাইকেল ও ১৬টি কার ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। ভাঙচুর করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাব ও জিরো পয়েন্টের পুলিশ বক্সও।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায়ই শাটল ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে তারা ছাদে উঠতে বাধ্য হন। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শাটল ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। গতকাল বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাটল ট্রেনের ব্যাপারে আমরা রেলওয়েকে বলতে বলতে শেষ। রেলওয়ে মন্ত্রী আমাদের গত বছরই বলেছিলেন ট্রেন দেবেন। কিন্তু আমরা তা পাইনি। তারা বলেছে তারা চেষ্টা করছে আরও দুই-তিনটি বগি বাড়ানোর।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। এ ঘটনার তদন্তে আমরা কমিটি গঠন করব। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশাসনের অসতর্কতা ও প্রস্তুতির অভাবে এত ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোনো একটা ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থীরা প্রতিক্রিয়া দেখায়, কিন্তু প্রশাসনকে এসব মোকাবিলা করার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে চবি প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘মেইন গেটে তালা দেওয়া ছিল, তাই পুলিশ ঢুকতে পারেনি। পুলিশ শহর থেকে আসতে দেরি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন তাদের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমবেদনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহন করবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।’

ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আছে উল্লেখ করে প্রক্টর বলেন, ‘উপাচার্যের বাসভবন, পুলিশ কক্ষ, শিক্ষক ক্লাব ও পরিবহন দপ্তরে যে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে তা আমার সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ব্যর্থ চেষ্টা ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন ব্যর্থ হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত