বাস থেকে ফেলে নারী পোশাক শ্রমিককে হত্যা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:২৮ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে তাকওয়া পরিবহনের চলন্ত বাস থেকে চম্পা বেগম (৩২) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাসটির চালক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেলিহাটি ইউনিয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এমসিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত লোকজন ওই বাসটিসহ একই পরিবহন প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

নিহত চম্পা বেগম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ নিজগাঁও গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী। তিনি শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি ছাপিলাপাড়া এলাকার হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। রাতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে বাসায় ফিরছিলেন।

স্বজনরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় নয়নপুর এলাকায় ছোট বোন লাভলী বেগমের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন চম্পা বেগম। সেখানে তার (বোনের বাসা) বাবা এসেছিলেন বেড়াতে। বাবা ও ছোট বোন সেখান থেকে সাড়ে ৯টার দিকে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন চম্পাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জৈনাবাজার এলাকা থেকে ছেড়ে আসা তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাসটি এমসিবাজারের কাছাকাছি পৌঁছার পর কথাকাটাকাটির জেরে চলন্ত বাস থেকে চম্পাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় হেলপার। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চম্পাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা আরও জানায়, নারী পোশাক শ্রমিককে ফেলে দিয়ে দ্রুত হেলপার ও চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানায়, দুই মাস আগেও শহিদুল ইসলাম নামে এক পোশাক শ্রমিককে তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। এই পথে বেশ কয়েকবার তাকওয়া পরিবহনে নারী ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। তাদের দাবি, তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাসে প্রায়ই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কংকন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘তাকওয়া পরিবহনের ওই বাস এবং চালক ও হেলপারকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত