দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ৯ দিনে (১-৯ সেপ্টেম্বর) তার আগের ৯ দিনের (২৩-৩১ আগস্ট) তুলনায় মৃত্যু ২৩ ও রোগী ১১ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসের শেষ ৯ দিনে যেখানে ডেঙ্গুতে দৈনিক গড় মৃত্যু ছিল ১১ এবং রোগী ২ হাজার ১৬১ জন, সেখানে এ মাসে তা বেড়ে মৃত্যু হয়েছে গড়ে ১৪ ও রোগী ২ হাজার ৩৯২ জন। এ মাসের শুরু থেকেই সংক্রমণ গত মাসের চেয়ে এ মাসে রোগী ও মৃত্যু বেড়েছে।
৯ দিনে মারা গেছে ১২৩ এবং রোগী ভর্তি হয়েছে ২১ হাজার ৫২৭ জন। রোগীর এই সংখ্যা গত মাসের শেষ ৯ দিনের চেয়ে ২৩১ ও মৃত্যু ২৩ জন বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আরও ১০ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে অর্ধেক মারা গেছে ঢাকায় ও অর্ধেক ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে এ বছর মারা গেল ৭১৬ জন। তাদের মধ্যে ৫১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং বাকি ২০৩ জনের ঢাকার বাইরে।
এ বছর আক্রান্ত পুরুষ বেশি হলেও মৃত্যু বেশি হয়েছে নারীদের। নারীরা আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৩৬ জন, যা মোট রোগীর ৩৮ শতাংশ। কিন্তু মারা গেছে ৪১৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ। অথচ পুরুষরা ৬২ শতাংশ আক্রান্ত হলেও মারা গেছে ৪২ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২ হাজার ৭৪৮ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৯৭ এবং ঢাকায় ১ হাজার ৫১ জন। এ নিয়ে এ বছর রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৫। তাদের মধ্যে ঢাকায় রোগীর সংখ্যা ৬৬ হাজার ৬৫ এবং ঢাকার বাইরে ৭৯ হাজার ২৭০।
এর আগে ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী ভর্তি হয় এবং মারা যায় ১৭৯ জন। সে বছর সেটাই ছিল দেশের ইতিহাসে রোগী ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড। পরের বছর ২০২০ সালে করোনা মহামারীকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা যায়নি। সেই বছর ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪০৫ এবং মৃত্যু ৭। ২০২১ সালে আবারও ডেঙ্গু বেড়ে যায়। রোগী ভর্তি হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন এবং মারা যায় ১০৫ জন। পরের বছর ডেঙ্গু আরও বেড়ে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে। সেই বছর মারা যায় ২৮১ ও ভর্তি হয় ৬২ হাজার ৩৮২ জন। এ বছর ইতিমধ্যেই রোগী ও মৃত্যুর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
