পড়া দিতে না পারায় ছয় বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বাথরুমে আটকে রেখে বেত দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে মাদ্রাসাতুল আমান লি-তাহসীনিল কুরআন মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ব্যাপারে তার বাবা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
শিশুটির বাবা হিমেল তরফদার বলেন, আমার মেয়ে ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগে অধ্যয়ন করছে। আমি প্রতিদিন সকালে তাকে দিয়ে আসি, রাতে আবার নিয়ে আসি। গত সোমবার রাতে মাদ্রাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে আসতে গিয়ে দেখি শরীরে জ¦র। বাড়িতে এনে জানতে পারি মাদ্রাসা শিক্ষক আমার মেয়েকে হাত বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। মেয়ের শরীরের মারধরের চিহ্ন রয়েছে। মারধরের ফলে তার শরীরে জ¦র আসে। তাকে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনা জানাতে মাদ্রাসার পরিচালক আমানুল্লাহ হুজুরের কাছে গেলে তিনি আমাকে অপমান করেন। ক্ষমতা দেখিয়ে একপর্যায়ে তিনি সব শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে আমাদের আটকে রাখে। আমি ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করেন।
ছয় বছরের শিশু জানিয়েছে, সে একটা পড়া না পারায় মাদ্রাসা শিক্ষক শহিদুল তাকে মারেন। পরে রশি দিয়ে বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে লাইট বন্ধ করে দেন। শিশুটি কান্নাকাটি করে বমি করে দেয়।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। আমি বাচ্চাটিকে পড়াশোনার জন্য শাসন করেছি। বেত দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছি। এ ছাড়া আমি শিশুটিকে কোনো নির্যাতন করিনি।’
মাদ্রাসার পরিচালক আমানুল্লাহ বলেন, শিশুটির পিতা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। এখানে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর ঘটনার পর শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাইন উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
