দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ছে। এ বিষয়ে গতকাল রবিবার মতামত দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের স্বাক্ষরের পর মতামতটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। আইনমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে কারাবাস থেকে মুক্তিলাভের পর এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। সর্বশেষ গত মার্চে বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এর আগে বাড়ানো মেয়াদ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে একই শর্তে (বিদেশে না যাওয়া ও দেশে চিকিৎসা নেওয়া) আরও ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলায় ১৭ বছর কারাদন্ড হয়েছে খালেদা জিয়ার। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদ- দেয় ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে সাত বছর কারাদন্ড দেয় বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল বিচারাধীন রয়েছে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করলে কারাবাস থেকে মুক্তি পান তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসন অসুস্থতা নিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস, পরিপাকতন্ত্র ও কিডনিতে জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়ে আসছেন। বিএনপি তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কথা বললেও সরকার বরাবরই বলে আসছে, শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তিতে থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।
