এক দফার আন্দোলনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, এক দফার আন্দোলন সামনে রেখে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদকরা আন্দোলনের এ পর্যায়ে এসে ‘রেডি (তৈরি) কমিটি ছাড়া’ দেশের কোথাও নতুন করে দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কোনো কমিটি না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তাদের দাবি, নতুন করে এখন আংশিক কমিটি দেওয়া হলে সংগঠনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে। কেননা যোগ্য সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে আংশিক কমিটি দেওয়া সম্ভব হয় না। যার নেতিবাচক প্রভাব আন্দোলনে পড়তে পারে। এ ছাড়া গত ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচির ‘ব্যর্থতায়’ এক দফা আন্দোলনের আগামীর কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা। কর্মসূচি সফলে যেকোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা নিরসনে বিএনপি মহাসচিবকে দলের সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন, যাতে করে কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত নয় এমন অভিযোগ কেউ করতে না পারে।
জানা গেছে, ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পেছনে তখন অনেকে এমন অভিযোগ করেছিলেন। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর হাইকমান্ডের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবরাও আগামীর কর্মসূচি সফলে যেকোনো মূল্যে সমন্বয়হীনতা নিরসনের ওপর জোর দেন।
বিএনপি চায় অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই লাগাতার আন্দোলনে নামতে। তখন সব কর্মসূচি হবে ঢাকাকেন্দ্রিক এবং যুগপৎ। ওই কর্মসূচি সপ্তাহ জুড়ে থাকবে। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাওয়ের সঙ্গে তখন টানা অবস্থানের কর্মসূচিতে যেতে পারে বিএনপি।
চলতি সেপ্টেম্বরে একাধিক সমাবেশ ও পাঁচটি রোডমার্চের কর্মসূচি রয়েছে দলটির। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে চলতি মাসটি গণসংযোগের শেষ ধাপ হিসেবে নিচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারই অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার ঢাকায় সমাবেশ এবং শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারুণ্যের রোডমার্চ হবে।
