হারুন স্যারকে প্রথম হামলা করেন আমার স্বামী : সানজিদা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:২৩ এএম

ছাত্রলীগের দুই নেতাকে থানায় নিয়ে মারধরের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত ডিএমপির রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হারুনকান্ডে কারা জড়িত, সেজন্য কাজ শুরু করছে তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আজিজুল হক মামুন প্রথমে এডিসি হারুনকে মারধর করেছিলেন। এপিএস মামুনের দায় কতটুকু, সেটি বের করতে ঘটনার সূত্রপাত বারডেম হাসপাতালে কী ঘটেছিল সেটি তদন্ত করে বের করা উচিত বলে মনে করে সংস্থাটি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, এডিসি হারুন-অর-রশীদকে বাঁচাতেই কি পুলিশের পক্ষ থেকে এমন দাবি তোলা হচ্ছে?

এদিকে এপিএস মামুনের পারিবারিক সমস্যার কথা বলা হলেও সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কেন গেলেন এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল? সেসব বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সবকিছু উঠে আসবে। তখন পুলিশের যে সদস্যের যতটুকু দায় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বেঁধে দেওয়া দুদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে পারেনি ডিএমপি সদর দপ্তরের গঠন করে দেওয়া তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

গতকাল মঙ্গলবার দুদিনের সময় শেষ হলেও তদন্ত শেষ করতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের এডিসি মো. শাহেন শাহ। তিনি বলেন, সময় বাড়ানোর আবেদন করা হবে। কারণ এখনো আমরা তেমন গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আশা করি তদন্ত রিপোর্টে আসল ঘটনা এবং কার কী ভূমিকা ছিল, সেগুলো উঠে আসবে।

জানা গেছে, এডিসি হারুনকা- যাকে ঘিরে সেই ডিএমপির এডিসি সানজিদা আফরিন নিপার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সানজিদার বিরুদ্ধে অতীতেও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে বারবার। ব্যাচমেট এক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ছিল এক কনস্টেবলের সঙ্গেও। সবশেষ হারুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ ওঠে। আর এটি বেশ কয়েক মাস ধরে তার স্বামী এপিএস মামুন গোপনে নজরদারি করছিলেন। ঘটনার পর সানজিদা অন্তরালে থাকলেও গতকাল মুখ খুলেছেন গণমাধ্যমে। তার দাবি, এডিসি হারুনের সহযোগিতায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের (বারডেম) এক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলার সময় রুমের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন এডিসি হারুন। এ সময় তার স্বামী আজিজুল হক মামুন আচমকা ছাত্রলীগের ছেলেপেলে নিয়ে হারুনকে মারধর করেন। মারধর করা হয় তাকে এবং তার বডিগার্ডকেও।

সানজিদার ঘনিষ্ঠরা জানান, ছাত্রজীবনে বিয়ে হয়েছিল এডিসি হারুন-সানজিদার। পরবর্তী সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। যদিও সানজিদা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ২০২১ সালের ৬ মে থেকে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত গাজীপুর সদর সার্কেলে এএসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন সানজিদা। ওই সময়ে লিঙ্কন নামে এক কনস্টেবলের সঙ্গে তার বেশ সখ্য ছিল। জেলা পুলিশ সদস্যদের কাছে মজাদার আলোচনার বিষয় ছিল এ জুটি। বিষয়টি গড়ায় তৎকালীন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শফিউল্লাহ পর্যন্ত। লিঙ্কনের স্ত্রী এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, লিঙ্কনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সানজিদা আফরিন। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়েছে। ঠিকমতো তাকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না লিঙ্কন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই অভিযোগ গ্রহণ করেনি পুলিশ। যথাযথ প্রমাণ না থাকায় লিখিত অভিযোগ পরিবর্তন করতে হয় তাকে। এতে সানজিদার বিষয়টি বাদ দিতে হয়।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন, এ বিষয়ে সানজিদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নন্দিতা মালাকারকে। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে চাননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর ডিএমপিতে যোগদান করেন সানজিদা। অবশ্য তার আগে ২০১৬ সালের ৫ মে থেকে ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে ছিলেন তিনি। একই ব্যাচের একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল সানজিদার। সম্পর্কের শুরুটা ২০১৪ সালে পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি সারদা থেকে। বিষয়টি একপর্যায়ে বিয়ে পর্যন্ত গড়াতে চেষ্টা করেন সানজিদা। বিয়ের দাবিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন এই নারী। কিন্তু ওই প্রেমিক কর্মকর্তা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই বিয়ে হয়েছে আজিজুল হক মামুনের সঙ্গে। টাঙ্গাইলের গোপালপুরের এম হোসেন আলীর মেয়ে সানজিদা আফরিন লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

গণমাধ্যমকে যা বললেন সানজিদা : আমার কিছু কার্ডিয়াক সমস্যা ছিল। গত চার-পাঁচ মাস ধরে বুকে ব্যথা বেড়ে গিয়েছিল। আমি ল্যাবএইডে যে চিকিৎসকের অধীনে ছিলাম, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। আমার জরুরি চিকিৎসকের প্রয়োজন হওয়ায় গত শনিবার ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে যাই। স্যার (এডিসি হারুন) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দিয়ে একজন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেন। আমার একজন কার্ডিয়াক চিকিৎসকের দরকার ছিল, তাই আমি অফিস থেকে বের হয়ে সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে যাই। কিন্তু চিকিৎসক তখন একটি কনফারেন্সে ছিলেন। এরপর স্যারকে বিষয়টি জানাই। তিনি তখন হাসপাতালটির আশপাশেই ছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর স্যার আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি চিকিৎসক ম্যানেজ করেন। এরপর আমি চিকিৎসক দেখিয়ে বেশ কিছু টেস্ট করাই। যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন আমি ইটিটি করাচ্ছিলাম। ইটিটিতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে। ২০-২৫ মিনিটের মতো। ইটিটি যখন শেষপর্যায়ে তখন আমি হট্টগোল শুনতে পাই। এ সময় এডিসি স্যারকে বলতে শুনি, ভাই আমার গায়ে হাত তোলেন কেন? আপনি তো আমার গায়ে হাত তুলতে পারেন না। আমি ভাবছিলাম অন্য কারও ঝামেলা। পরে আমি এসে দেখি আমার হাজব্যান্ড। ওনাকে আউট অব মাইন্ড লাগছিল। তাকে উত্তেজিত লাগছিল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। তাদের হাত থেকে বাঁচতে স্যার ইটিটি কক্ষের একটি কর্নারে যান। আমার হাজব্যান্ড তখন ওই ছেলেগুলোকে বলে, ‘তোরা এ দুজনের ভিডিও কর।’ তখন আমি ইটিটির পোশাকে ছিলাম। সেই কক্ষে কোনো ছেলে প্রবেশের কথা নয়। আমি এ বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে সাউট করি। তখন আমার স্বামী আমাকে দুটি চড় দেয়। এ সময় আমার গাড়িচালক মাঝখানে দাঁড়ায়। তারপর আমি দেখি আরও একজন ছেলে ভিডিও করছিল, তখন আমি তার কাছ থেকে ক্যামেরা নেওয়ার চেষ্টা করি। তখন তার সঙ্গেও আমার হাতাহাতি হয়। আমার স্বামী আমার গায়ে হাত তোলে। তখন এডিসি স্যারকে টেনেহেঁচড়ে তারা রুম থেকে বের করার চেষ্টা করে। এডিসি স্যার তখন বলতে থাকেন, এখান থেকে আমাকে বের করলে তো মেরে ফেলবেন। এরপর এডিসি হারুন ফোর্স খবর দেন। এর মধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরাও আসেন। ফোর্স আসা পর্যন্ত এডিসি হারুন ইটিটি কক্ষেই ছিলেন। ১০-১৫ মিনিট পর ফোর্স আসে। এরপর এডিসি হারুন চলে যান। আমার বডিগার্ডের ওপরও তারা হাত তোলে।

ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে হাসপাতালে ডিএমপি কমিশনার : গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে দেখতে যান ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। এ সময় ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, শাহবাগ থানার ঘটনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নাঈম আহত হয়েছেন। আমি মূলত তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খবর নেওয়ার জন্য সহকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছি, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সে এখনো বেশ কিছুটা অসুস্থ। তার আরও কয়েক দিন সময় লাগবে পুরোপুরি সুস্থ হতে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হওয়ার আগে দুজন অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এডিসি হারুনকে সরকার সাময়িক বরখাস্ত করেছে। আরেকজন শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মোস্তফাকেও থানা থেকে সরানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়সহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত দেখবে কে কে দোষী এবং প্রকৃত ঘটনা কী। কেন ঘটনাটি ঘটল এবং কে কে কতটুকু দোষী। এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি আমাদের প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা সরকারের কাছে পাঠাব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। ঘটনার সময় এডিসি হারুনের গায়েও হাত তোলার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পরে সার্বিক চিত্রটি আমাদের কাছে আসবে। এই মুহূর্তে কার কতটুকু দোষ তা বলা যাচ্ছে না। আমরা আপাতদৃষ্টিতে দেখছি, একজন ছাত্রকে থানার ভেতরে মারধর করা বেআইনি। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ওইটুকু অ্যাকশন নিয়েছি। এর মধ্যে যদি তদন্তে আরও অন্য কোনো বিষয় আসে সেসব বিষয় দেখা হবে।

প্রথম হামলা করেছেন এপিএস মামুন : গতকাল নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, উনি (এপিএস মামুন) একজন সরকারি কর্মকর্তা। পুলিশের ওপর প্রথম হামলাটা তিনিই করেছিলেন। তিনি ইচ্ছা করলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। অথবা তারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছিল তাদের অবহিত করতে পারতেন। কিন্তু উনি তা না করে হাসপাতালের ভেতরে অসুস্থ মানুষের সামনে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাওয়া করেন। তার চশমা ভেঙে ফেলেন, তার ওপর আঘাত করেন। এটা সঠিক করেছেন কি না তা আমি জানি না, তবে এর তদন্ত হওয়া উচিত।

থানায় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতনের ঘটনার সূত্রপাত বারডেম হাসপাতাল থেকে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কখনো ব্যক্তিগত কর্মকা-ের দায় নেয় না। আমি মনে করি এ ঘটনায় স্বাধীনভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সঠিকভাবে ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন শিগগির দেবে। তখন আসল ঘটনা জানতে পারব আমরা।

যা বলছে মানবাধিকার কমিশন : গতকাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর করা এক আদেশে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ আইন ও নীতিবিরুদ্ধ। ব্যক্তিগত আক্রোশকে কেন্দ্র করে থানায় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতন একজন পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র ফুটে উঠেছে। তদন্ত-সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন।

বিচার চান চোখ হারানো সেই মোশাররফ : তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে গত বছর ১৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের। সংঘর্ষে এক কলেজছাত্র চোখে আঘাত পান। দৃষ্টি হারানো মোশাররফ হাজারী আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আমার দুই চোখই অন্ধ। মাথায় ৩০-৩৫টি ছররা গুলি এখনো আছে। এগুলো আর বের করা সম্ভব নয়। আমাকে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমি উন্নত চিকিৎসার জন্য দুবার ভারতে গিয়েছি পরিবারের জমি বিক্রি করে। কোনো লাভ হয়নি। চোখে দেখার আশা ছেড়ে দিয়েছি। আমি এখন অসহায়। আমাকে দেখার মতো কেউ নেই। সম্প্রতি আলোচনায় আসা এডিসি হারুনের কথা জিজ্ঞেস করলে মোশাররফ বলেন, আমার ঘটনার পর জানতে পারি এডিসি হারুনের নির্দেশে গুলি করা হয়। আমি তার বিচার চাই কিন্তু কার কাছে চাইব?

ডিসি হারুন এবার রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত : এদিকে ছাত্রলীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে থানায় নিয়ে বেধড়ক পিটুনির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদকে এবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরিয়ে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে তাকে দুই দফায় বদলি করা হয়। সর্বশেষ হারুনকে এপিবিএনে থাকা অবস্থায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

গতকাল সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদকে (বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত) রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় রংপুরে সংযুক্ত করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত