তিন শিক্ষার্থীকে পেটালেন ছাত্রলীগ সম্পাদক

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৩৯ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগ নেতার নিষেধ অমান্য করে ক্লাস করার ‘অপরাধে’ তিন ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় হাসান মেমোরিয়াল সরকারি অনার্স কলেজ মাঠে মারধরের ঘটনা ঘটে। যার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তিনি হলেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অনি।

আর আহতরা হলেন একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার জাবেদ হোসেন, আবদুর রশিদ লাবিব ও ফায়সাল মাহমুদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার মেহেদী তার কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে ক্লাস চলাকালে মেয়েদের কমনরুমে গিয়ে উচ্চ স্বরে গান করেন। ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক হাসান আহমেদ মজুমদার তাৎক্ষণিক গিয়ে গান বন্ধ করার জন্য বলেন। পাশাপাশি বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবহিত করেন। এরপর গত রবিবার আবারও মেয়েদের কমনরুমে গিয়ে গান গান মেহেদী ও তার অনুসারীরা। পরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দর চৌধুরী গান না গাইতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান অনি তার অনুসারীদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে ছেলেদের কমনরুম দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তারা দুদিনের মধ্যে দাবি না মানলে ক্লাস বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন। সে অনুযায়ী গতকাল একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস চলাকালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রেখে বাইরে আসতে বলেন মেহেদী হাসান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার এ নির্দেশ অমান্য করে ক্লাস করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজের ছুটি শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে ১৫-২০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নিয়ে তিন ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। খবর পেয়ে কলেজের শিক্ষকরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেই সঙ্গে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

তবে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান অনি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ওই সময় কলেজে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে। আপনারা (সাংবাদিকরা) তদন্ত করে সত্য ঘটনাটি তুলে ধরেন।’

অন্যদিকে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর মাহমুদ অন্তর বলেন, ‘যদি কোনো শিক্ষার্থী অন্যায় করে ছাত্রলীগ তার অন্যায়ের ভার বহন করবে না। ঘটনাটি শুনেছি, তদন্তের মাধ্যমে জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দর চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতি ও রবিবার ক্লাস চলাকালে মেয়েদের কমনরুমে গিয়ে উচ্চ স্বরে গান গাচ্ছিল মেহেদী। বিষয়টি আমার নজরে এলে তাকে বারণ করি। পরে সে আমার কাছে ছেলেদের কমনরুমসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। তার এ দাবি না মানলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন আন্দোলন করবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়। আমি এখানে আসছি মাত্র তিন মাস হয়েছে। এরই মধ্যে তার দাবিগুলো তাড়াতাড়ি কীভাবে পূরণ করব। একটু সময় লাগবে।’

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখনো মামলা হয়নি। মামলা বা অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত