লিবিয়ায় বন্যায় ১০ হাজার প্রাণহানির শঙ্কা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৪০ এএম

লিবিয়ার ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েলের কারণে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে একটি নদীর দুটি বাঁধ ভেঙে বন্যায় ভেসে গেছে দেশটির পূর্বাঞ্চল। বাড়ি-গাড়ি-মানুষ ভেসে গেছে খড়কুটোর মতো। গতকাল মঙ্গলবার সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলছে।

সোমবার ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল পূর্ব লিবিয়াকে বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে। যার ফলে ওয়াদি দেরনা নদীর দুটি বাঁধ ভেঙে যায়। এই বাঁধ ভেঙে দেরনা শহরে লক্ষাধিক ঘনমিটার পানি ঢুকে পড়ে। এই পানি দেরনা শহরে আঘাত হানে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

বন্যায় শহরের আবাসিক ভবনগুলো ধসে পড়েছে। পানির স্রোতে একাধিক সেতু ভেঙে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ত্রিপোলি থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রেনা বলেন, ‘এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিত বলা যাবে না। আনুমানিক পাঁচ থেকে ১০ হাজার মানুষ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।’ ট্রেনা আরও বলেন, কর্র্তৃপক্ষ দেরনা শহরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তারা কোনোভাবেই সেখানে যেতে পারছে না। কারণ, বন্যার পানির স্রোতে এই শহরের রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে দেরনা শহরের আশপাশের মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় শহরটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ বন্যায় শহরের চার ভাগের একভাগ ডুবে গেছে। মঙ্গলবার আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় লিবিয়া-মার্কিন সম্পর্কের জাতীয় কাউন্সিলর হানি শেনিব বলেন, শহরের প্রায় চার বর্গ কিমি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। অনেক রোগী ও কর্মীকে প্লাবিত এলাকার হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্লাবিত এলাকায় আটকা পড়েছেন।

লিবিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ প্রতিনিধিদলের সদস্য তামের রমাদান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ দুর্যোগ মোকাবিলা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।’ বেনগাজির বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হিচেম চকিউয়াত দেরনা শহর পরিদর্শন করে মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেন, ‘সমুদ্রে, উপত্যকায়, ভবনের নিচে, সব জায়গায় মৃতদেহ পড়ে আছে।’

পূর্বাঞ্চলীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওথমান আবদেল জলিল স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলে বলেন, ‘ হাজারো মানুষ নিখোঁজ। নিহতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত