কোনো ব্যক্তি এককভাবে ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমি রাখতে পারবেন না। উত্তরাধিকার সূত্রে বেশি জমি পেলেও ৬০ বিঘা কৃষিজমি রেখে অতিরিক্ত জমি ছেড়ে দিতে হবে। অতিরিক্ত কৃষিজমি সরকার খাস হিসেবে অধিগ্রহণ করতে পারবে। এমন বিধি রেখে প্রস্তাবিত ভূমি সংস্কার আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভূমি সংস্কার আইন-২০২৩-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এখন এ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। তবে নতুন আইনে ওই অধ্যাদেশের অনেক কিছুই অবিকৃত রাখা হয়েছে।
আইনে আটটি ক্ষেত্রে ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমি রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভূমি সংস্কার আইন-২০২৩ ছাড়াও সংসদ কর্তৃক ভূমিসংক্রান্ত আরও দুটি বিল গৃহীত হয়েছে। সেগুলো হলো ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩’ এবং ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২৩’। এ তিনটি বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে তা আইনে পরিণত হবে এবং গেজেটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংসদের আইন হিসেবে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে ৬০ বিঘার অধিক কৃষিজমির মালিক হওয়া যাবে না। উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত ভূমির ৬০ বিঘার অধিক হলে উত্তরাধিকারী পছন্দমতো ৬০ বিঘা ভূমি রাখতে পারবেন এবং অবশিষ্ট ভূমি সরকারবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে খাস করবে। তবে ৬০ বিঘা জমি থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে নামে-বেনামে নতুন করে অধিক জমি কিনলে অতিরিক্ত জমি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না।
