চিটাগাং চেম্বারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেউ পদত্যাগ করলেন। এর আগে এই চেম্বারের নেতৃত্ব নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব, প্রকাশ্য বিরোধ থাকলেও কেউ লিখিতভাবে পদত্যাগ করেনি। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বনেদি এই চেম্বারের পরিচালক থেকে পদত্যাগ করলেন প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। গতকাল বুধবার তিনি চেম্বারের নতুন সভাপতি ওমর হাজ্জাজের বরাবর এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি এর আগে চিটাগাং চেম্বারের গত টার্মের (২০২১-২৩) ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১৯-২১ টার্মে পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। গত মাসে ২০২৩-২৪ টার্মের জন্য পরিচালক হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বর্তমানে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বাবা এম নাসির উদ্দিনের হাতে গড়া এই শিল্প গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে প্রথম জিন্স রপ্তানিতে পথ দেখিয়েছিল। তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি গ্রুপটিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতৃত্বেও প্রতিভাবান হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। গত দুই টার্মে চিটাগাং চেম্বারের দায়িত্বে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অনেক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ সময় তার উদ্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণনির্ভর ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ নামে একটি স্বাধীন ট্রাস্ট গঠন করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম চেম্বারের নীতি নির্ধারণ কাজে সহায়তা করে আসছিল এই সংস্থাটি।
কিন্তু তানভীর কেন পদত্যাগ করলেন? এ বিষয়ে জানতে চাইতে গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণে চেম্বার পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’
চট্টগ্রাম চেম্বারের ১১৭ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় কোনো পরিচালক পদত্যাগ করলেন। পদত্যাগপত্রের চিঠিতে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর চেম্বারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মেয়াদে চেম্বারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে অপারগতার কথা জানান।
চট্টগ্রাম চেম্বারের নতুন কমিটির পরিচালকরা পাঁচবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচিত পরিচালকরা চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এম এ লতিফের তৃতীয় সন্তান ওমর হাজ্জাজকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। ৩২ বছর বয়সী ওমর হাজ্জাজকে চেম্বারের মতো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সভাপতি নির্বাচন করায় বিষয়টি অনেকে মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেননি এত দিন। এবার কোনো পরিচালকের পদত্যাগে বিষয়টি সামনে এসেছে আবার।
