জাতিসংঘের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী রবিবার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর বক্তব্য দেবেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য ইত্যাদি বিষয়ে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, নিরাপদ অভিবাসন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিষয়গুলো তার বক্তব্যে উঠে আসবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ড. মোমেন বলেন, এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে যুদ্ধবিগ্রহ পরিহার করে চলমান খাদ্য ও জ্বালানি সংকট নিরসন, আর্থিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা, বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিকতাবাদ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন প্রভৃতি বিষয়ে এবারের আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং এর স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের বিষয়টিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হবে, যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে বলে জানান ড. মোমেন।
নিউ ইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ খুরশীদ এ. চৌধূরী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
