চট্টগ্রামের রাউজানে অপহরণের শিকার কলেজছাত্র শিবলী সাদিককে হত্যার চার দিন পর তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা নেয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত অং ফ্রাই সিং। গত বৃহস্পতিবার নগরীর চান্দগাঁও থেকে গ্রেপ্তারের পর বিকেলে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান।
রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, সাদিক হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি উমং সিং মারমাকে রাঙ্গামাটির কাউখালীর বালুর পাহাড় থেকে নিহত সাদিকের দেহাবশেষ উদ্ধার করে ফেরার পথে কদলপুর এলাকায় পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর চান্দগাঁও এলাকা থেকে অপহরণের পর সাদিক হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অন্যতম আসামি অং ফ্রাই সিং মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন বিকেলে সে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে সাদিক হত্যার দায় স্বীকার করে।
জবানবন্দিতে অং ফ্রাই সিং জানায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে তারা ছয়-সাতজন সাদিককে অপহরণ করে বালুর পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ কয়েক টুকরো করে পাহাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়ে ফের রাউজানের কদলপুরের পঞ্চপাড়ার মুরগির খামারে চলে আসে। কিন্তু সাদিককে অপহরণের বিষয়টি এলাকাবাসী জেনে যাওয়ায় খামার থেকে তারা পালিয়ে যায়। পরে ২ সেপ্টেম্বর বান্দরবান জেলা সদর এলাকায় গিয়ে সাদিকের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা নেয় অং ফ্রাই।
আদালতে অং ফ্রাই জানায়, মাসখানেক আগে খামারের কাজ নিয়ে সাদিকের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় উমং সিং মারমাসহ (গণপিটুনিতে নিহত) অন্য সহকর্মীদের। পরে বিষয়টি খামার মালিক মীমাংসাও করে দেন। কিন্তু ক্ষোভ রয়ে যায় তাদের মধ্যে। একপর্যায়ে সাদিককে অপহরণ করে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা।
ওসি হারুন আরও জানান, এর আগে সাদিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি সুইংচিং মং মারমা (২৪) ও অংথইমং মারমা (২৫) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাদিক খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, অপহরণের মূলহোতা উমং চিং মারমাকে চিনত শিবলী সাদিক। তাকে ছেড়ে দিলে পরে সে বাড়ি গিয়ে নিজেদের (অপহরণকারীদের) জন্য বিপদ ডেকে আনবে, এমন আশঙ্কা থেকে শিবলীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় উমং চিং।
অপহরণের পরদিন বিকেল ৩টার দিকে শিবলীর মা নাহিদা আকতারের কাছে মোবাইল ফোনে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে উমং চিং। ছেলেকে ফিরে পাবার আশায় ২ সেপ্টেম্বর উমং চিংয়ের কথামতো বান্দরবান জেলা সদর এলাকায় গিয়ে অং ফ্রাই সিংসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ টাকা দিয়েও আসেন শিবলীর বাবা মো. শফি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর চান্দগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর উমং চিংকে নিয়ে পরদিন সোমবার সকালে শিবলী সাদিকের বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটি উপজেলার কাউখালী ইউনিয়নের দুর্গম বালু পাহাড়ে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে তার দেখানো জায়গা থেকে শিবলীর খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে দেহাবশেষ নিয়ে ফেরার পথে শিবলীর বাড়ির কাছে পুলিশের গাড়ি থেকে উমং চিং মারমাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
