সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফতাব হোসেনের মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় ওভারব্রিজ নির্মাণ করেনি কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, ওভারব্রিজ নির্মাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলছে ঠেলাঠেলি। একে অন্যের ওপর চাপিয়ে দায় সারছেন সবাই। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাসের সঙ্গে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান শিক্ষক আফতাব হোসেন। তখন ১ নম্বর গেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা ফুটওভারব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানান।
চবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষকের মৃত্যুতে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে টনক নড়ে চবি প্রশাসনের। হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ১ নম্বর গেট এলাকায় আঁকা হয় জেব্রা ক্রসিং, স্থাপন করা হয় রাম্বল স্ট্রিপ ও স্পিড ব্রেকার। তবে এখন পর্যন্ত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করেনি প্রশাসন। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে রয়েছে প্রাণহানির শঙ্কা। চবি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ রাস্তায় প্রতিদিন অনেক যানবাহন চলে। আমরা বেশ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হই।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষকের মৃত্যুতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জোরালো দাবি উঠলে চট্টগ্রামের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় জেলা সড়ক বিভাগ ব্রিজের নকশা চূড়ান্ত করে। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে প্রস্তাবিত নকশায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বৈদ্যুতিক সংযোগের খুঁটি থাকায় জটিলতা দেখা দেয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চবির প্রধান প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেনি।’ চবির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোহাম্মদ ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর কাজটি পিডিবিকে দিলেই সমাধান চলে আসে।
ত্রিপক্ষীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব।’ তবে উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, ব্রিজ নির্মাণে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর কাজটি দায়িত্ব নিয়ে করে দেবে। পিডিবির সঙ্গে এই জটিলতা সমাধান করবে বিশ্ববিদ্যালয়।’ অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানান হাটহাজারী পিডিবির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন কোনো কাজ দেয়নি। তা ছাড়া সংশ্লিষ্ট কাজগুলো তারাই করে থাকে।’
×
