উৎকোচ না দেওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুস সাত্তার সিকদারের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন একই দপ্তরের মাঠ মৌসুমে ট্রাভার্স জরিপ কাজের ক্যাম্প অফিসার (মাঠকর্মী) গিয়াস মাহমুদ রাজা মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুস সাত্তার সিকদার ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। রাজা মিয়াও একই এলাকার হওয়ায় সাত্তার সিকদারের মাধ্যমে তেজগাঁও ভূমি জরিপ অফিসে ট্রাভার্স জরিপ কাজের ক্যাম্প অফিসার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে উৎকোচ হিসেবে রাজা মিয়ার বেতন থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৩ হাজার টাকা ও ২০২১-২২ অর্থবছরে দশ হাজার টাকা নেন আবদুস সাত্তার। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাকে কোনো টাকা না দিলে তিনি রাজা মিয়ার বেতনের পুরো টাকা আটকে দেন। বেতন আটকে দেওয়ায় রাজা মিয়া ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর আবেদন করলে এক পর্যায়ে বেতনের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয় আবদুস সাত্তার। এরপর তিনি বিভিন্নভাবে রাজা মিয়াকে হুমকি দিতে থাকেন। পরে মিরপুর মডেল থানায় রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, ‘আবদুস সাত্তার সিকদার একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক। ইতিপূর্বে নিজ এলাকা নৈকাঠী গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকের নামে মিথ্যা ওয়ারেন্ট তামিল করে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার নামে রাজাপুর থানায় চারটি, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি ও ঢাকার মিরপুরে একটি মামলা রয়েছে। আমি তার মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য এবং তার দুর্নীতির বিষয়ে ভূমি জরিপ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
এ বিষয়ে জানতে আবদুস সাত্তার সিকদারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
