বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা একটা ঘোর অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। রাষ্ট্র এখন আর রাষ্ট্র নেই। রাষ্ট্র এখন পুরোপুরিভাবে একটা যন্ত্রণা, অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়নের কারখানা হয়ে গেছে। একটা রাষ্ট্র তখনই গণন্ত্রতান্ত্রিক সফল রাষ্ট্র হতে পারে যখন তার তিনটা স্তম্ভই কাজ করে। সোজা কথায় বলি বাংলাদেশের আত্মাটাকে তারা (আওয়ামী লীগ) ধ্বংস করে দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। লজ্জা পাই, যখন টেলিভিশনে দেখি কয়েকজন প্রথিতযশা সম্পাদক এবং বিভিন্ন সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এই ভয়াবহ অত্যাচার-নির্যাতন, গণতন্ত্র হত্যার কর্মযজ্ঞকে সমর্থন করেন। আমাদের কথা বাদ দেন। রাস্তার কর্মী, মাঠের কর্মী, মাঠের মধ্যে লড়াই করি, জেলে যাই, অনেকের ফাঁসিও হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে আমাদের ঈশ্বরদীর প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মীকে ৩০ বছর আগে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে কি ঢিল-টিল মেরেছিল সেজন্য বিচারকরা ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড, ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন। হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ৭০ বছর কারাদন্ড দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর মতো ৬৪৮ জনকে গুম করেছে। সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করেছে, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং করেছে। সম্পাদক শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। যারা দেশে আছেন এমন অনেক সম্পাদক সাংবাদিকদের নিগৃহীত হতে হয়েছে, কারাগারে যেতে হয়েছে। কত বলব, কার কথা বলব? অত্যাচার-নির্যাতন এমন একটা পর্যায় চলে গেছে এখান থেকে মুক্তি পেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে রুহুল আমিন গাজী, এম আবদুল্লাহ, নুরুল আমিন রোকন, এম এ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, ইলিয়াস খান, মোরসালিন নোমানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারকে আরেকটু ধাক্কা দিলেই তারা পড়ে যাবে : এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচিতে মঞ্চের নেতা জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারকে আরেকটু ধাক্কা দিলেই তারা পড়ে যাবে। ওদের ভয় দেখানোর অস্ত্রটা ভোঁতা করে দিতে হবে।
পূর্ব সমাবেশে জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, চলমান কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে আন্দোলন আরও উত্তাল হবে। সরকার যদি তফসিল ঘোষণার চেষ্টা করে, একতরফা নির্বাচন করার চেষ্টা করে, জনগণ রাজপথে নেমে গলায় গামছা বেঁধে তাদের ক্ষমতা থেকে নামাবে।
সমাবেশ শেষে টিকাটুলী মোড় পর্যন্ত গণমিছিল করেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শহীদউদ্দিন মাহমুদ, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ অংশ নেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় : জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির নেতারা। গতকাল বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জন্মাষ্টমীর এই অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।
এতে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন ও ইসকন মন্দিরের পুরোহিতরা ও বাংলাদেশ পূজা পরিষদের নেতারা অংশ নেন।
জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, আজকে আমাদের দায়িত্ব এই দেশকে রক্ষা করার। এটা শুধু বিএনপির আন্দোলন নয়। এটা সমস্ত মানুষের আন্দোলন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশ যেভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে, এ দেশকে রক্ষা করতে হলে বর্তমান বিপর্যয় থেকে পরিবর্তন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বিজন কান্তি সরকার, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, আবদুল বারী ড্যানি, অমলেন্দু অপু, সুশীল বড়ুয়া, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, তরুণ দে প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে জন্মাষ্টমীর প্রসাদ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
