দেশে ডেঙ্গুতে আরও এক নারী মেডিকেল শিক্ষার্থী মারা গেছেন। তার নাম দীপান্বিতা বিশ্বাস। তিনি রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই শিক্ষার্থী।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দুজন মেডিকেল শিক্ষার্থী মারা গেলেন। এর আগে রাজধানীর ধানম-ির আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দা সাদিয়া ইয়াসমিন রাইসা গত ২৫ জুলাই সকালে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি এমবিবিএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
দীপান্বিতার অকালমৃত্যুতে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরে আবাসিক হলের শিক্ষার্থী এবং সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা দীপান্বিতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
দ্বীপান্বিতার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল হুদা লেলিন। তিনি এক শোকবার্তায় জানান, এমবিবিএস ৫১তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্রী দীপান্বিতা বিশ্বাস ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মৃত্যুবরণ করেন। তার অকালমৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গভীরভাবে শোকাহত। দীপান্বিতা বিশ্বাসের আত্মার শান্তি কামনায় আজ বুধবার কলেজে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে।
দীপান্বিতার সহপাঠীরা জানান, পরিবারের একমাত্র কন্যাসন্তান দীপান্বিতা বিশ্বাস স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলের এমবিবিএস ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর লক্ষ্মীপুর এলাকায়। তার বাবার নাম অমল বিশ্বাস।
সহপাঠীরা আরও জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর মেডিকেলের আবাসিক হলে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন দীপান্বিতা। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে সলিমুল্লাহ মেডিকেলের আইসিইউতে নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত শুক্রবার ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে চারজন ও ঢাকার বাইরে তিনজন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮৪৬ জন মারা গেল। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছে ৫৭৮ জন ও ঢাকার বাইরে ২৬৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ২৭ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৭৮ জন ও ঢাকায় ৮৪৯ জন। সে হিসেবে ঢাকার বাইরে ঢাকার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী বেশি ভর্তি হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৫ জন। সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১০ হাজার ১০২ জন রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৩ হাজার ৮১৪ জন। আর বাকি ৬ হাজার ২৮৮ জন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে।
