নিষিদ্ধ চায়না জালে চলছে মাছ শিকার, জানে না কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৩:০৫ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বড়াল নদে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার করছেন অসাধু মৎস্য শিকারিরা। প্রায় সারা বছর ধরেই অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হলেও তা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনো নেওয়া হয়নি পদক্ষেপ। এতে বিভিন্ন মাছ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছে জলজ উদ্ভিদ ও জীব বৈচিত্র্য। নদীর প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবৈধ জাল ব্যবহার করে চলছে মৎস্য শিকারের মহোৎসব। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য দপ্তর একেবারে গাছাড়া।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ইউএনও পার্ক সংলগ্ন বড়াল সেতু ও রেল ব্রিজ এলাকায় নদে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতি ছোট-বড় সব ধরনের মাছ। সন্ধ্যায় তারা এগুলো বাঁশের কাঠি সংগে যুক্ত করে নদের পানির নিচে ডুবিয়ে রাখে। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে তারা নদের বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করায় বড়াল তীরের এক ব্যক্তি বলেন, এরা সারা বছরই এ নদেতে দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মৎস্য শিকার করে। এ জালে মাছ শিকারের ফলে মাছ ও জলজপ্রাণী ক্ষতি হয়। চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে প্রশাসনের অভিযানের দাবি জানান তিনি।

বড়াল রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাদি বলেন, চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মৎস্য শিকার এটি একটি অপরাধ। এই জালের ব্যবহার মৎস্য সম্পদ, জলজ প্রাণী, জীব-বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়। যারা এই অবৈধ জাল আমদানি করছে এবং বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আগামী উপজেলা পরিষদের সভায় বিষয়টি জোরালো ভাবে উপস্থাপন করা হবে।

উপজেলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টির তিনি কিছুই জানেন না। তবে এর আগে তারা উপজেলার মাধববাড়ীয়া বিলে অভিযান করে দুটি দুয়ারি জাল জব্দ করেছিলেন। তিনি বড়ালে নদে কখনও অভিযান পরিচালনা করেনি। তিনি এ বিষয়টির খোঁজ নিবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা সরকার জানান, আমি আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। এই জাল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত