বিরতির ঠিক আগে ওসমান বুকারির গোলে স্মরণীয় এক জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ১৯৯১-এর ইউরোপিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন রেড স্টার বেলগ্রেড। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে ম্যানচেস্টার সিটি, চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাধারী। ফ্রন্টলাইনের পাঁচ জন খেলোয়াড় চোটে থাকলেও যাদের নিয়ে নেমেছে, তারাই ট্রেবল চ্যাম্পিয়নের মাহাত্ম্য প্রমাণ করে ছেড়েছে। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিন গোল তুলে নিয়েছে, যার দুটি বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। রদ্রির শেষ গোলে ৩-১-এর জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম শুরু করেছে চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে দুই দলের শক্তির ব্যবধান বিস্তর। মাঠে তা খুব ভালোভাবেই ফুটে ওঠে। ম্যাচের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় কতখানি আধিপত্য বিস্তার করেছিল ম্যান সিটি! ৭৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের গোলমুখে ৩৭টি শট নিয়ে ১৬টি লক্ষ্যে রাখে তারা।
ইসরায়েলি গোলরক্ষক ওমরি গ্লেজার নিজের সেরাটা নিংড়ে দেন। যদিও তার হিসাবের গড়বড়ে একটি গোল হজম করে রেডস্টার। তবে তার নৈপুণ্যকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে বিশাল ব্যবধানে জিততে পারত স্বাগতিকরা। একে একে মোট ১৩টি সেভ করেন গ্লেজার।
প্রথমার্ধে লক্ষ্যে ৯টি রাখাসহ গোলমুখে মোট ২২টি শট নেয় সিটি। অথচ বিস্ময় জাগিয়ে গোলের উল্লাসে মাতে সফরকারীরা! ৪৫তম মিনিটে মিরকো ইভানিচের পাসে লক্ষ্যভেদ করেন বুকারি। গোলমুখে এটাই ছিল রেডস্টারের প্রথম শট।
একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও পিছিয়ে পড়ার পর হতাশা নিয়ে বিরতিতে যায় ম্যানসিটি। দুটি সুযোগ নষ্ট হয় নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের কারণে। এর মধ্যে তার একটি প্রচেষ্টা বাধা পায় ক্রসবারে। আলভারেজ আর ফিল ফোডেনও ভালো কিছু সুযোগ পেলেও তখন পর্যন্ত পারেননি গ্লেজারকে পরাস্ত করতে।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই স্কোরলাইন ১-১ করেন আলভারেজ। হালান্ডের পাসে বাইলাইনের কাছ থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে নিশানা ভেদ করেন তিনি। ৬০ মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলভারেজ। তার ফ্রি-কিক পাঞ্চ করার চেষ্টায় বলে ঠিকমতো হাত ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন গ্লেজার। এই গোলেই আলভারেজ মনে করিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসিকে। ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘অপটা হাভিয়ের’ জানিয়েছে, মেসির পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করলেন ২৩ বছর ২৩১ দিন বয়সী আলভারেজ। ১৪ বছর আগে অর্থাৎ, ২০০৯ সালে আর্জেন্টাইনদের মধ্যে রেকর্ডটি গড়েছিলেন মেসি। বার্সেলোনার খেলোয়াড় হিসেবে ২২ বছর ১৬৮ দিন বয়সে ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করেছিলেন ইন্টার মায়ামি তারকা।
৭৩তম মিনিটে গার্দিওলার দল স্বস্তিকর অবস্থানে পৌঁছে যায় স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রির কল্যাণে। ইংলিশ মিডফিল্ডার ফোডেনের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালের ফাঁক গলে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান। বাকি সময়ে গোল হওয়ার মতো আর কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ম্যাচ শেষে পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘‘আমরা বিপদে আছি কিন্তু আমি বলতে যাচ্ছি না ‘ওহ, আমাদের অনেক ইনজুরি আছে’। আমাদের যে খেলোয়াড় রয়েছে তাই নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব। যতক্ষণ আমাদের সেই মানসিকতা থাকবে, ততক্ষণ এটি ভালো। (তবে) পাঁচজন সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আহত হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় টিকে থাকা কঠিন হবে।”
