দ্বিতীয়বার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৪৫ এএম

টাঙ্গাইলের পশ্চিম ভূঞাপুরে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুর রহিম আকন্দের স্ত্রী ও ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নিউজ এডিটর আবু সায়েম আকন্দের মা সুলতানা সুরাইয়া (৬৫) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। ওই নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকার মো. লাবু (২৮) ও টাঙ্গাইলের পশ্চিম ভূঞাপুরের আল আমিন আকন্দ (২২)। তারা উভয়েই বেকার থাকায় ছোটখাটো চুরি-ছিনতাই করে থাকেন। পরে গতকাল বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতরা টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের ইন্সপেক্টর তানভীর আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইন্সপেক্টর তানভীর আহাম্মেদ জানান, টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইসমত আরা গ্রেপ্তারকৃত মো. লাবুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম অপর গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন আকন্দের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়ের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেপ্তারকৃত মো. লাবু ও আল আমিন আকন্দ ঘটনার বর্ণনা দেন। তারা জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চুরি করতে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে টিনের গেট টপকে ওই বাড়িতে ঢুকে লুকিয়ে থাকেন। গভীর রাতে সুলতানা সুরাইয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে আসার সুযোগে তারা দুজন ঘরের ভেতর ঢুকেন। তিনি লাবু ও আল আমিনকে দেখে চিনে ফেলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরে থাকা গামছা দিয়ে তারা ওই নারীর মুখ বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখেন। এক পর্যায়ে দুজনে শলাপরামর্শ শেষে আল আমিন ওই মহিলার পা চেপে ধরে রাখেন এবং মো. লাবু সঙ্গে আনা অত্যাধুনিক ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করেন। ওই সময় সুলতানা সুরাইয়া ছটফট করতে থাকলে আল আমিন দ্বিতীয়বার জবাই করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে তারা ঘরের বিছানার নিচ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল চুরি করে পালিয়ে যান।

এর আগে গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন গ্রেপ্তারকৃতদের বরাতে জানান, সুলতানা সুরাইয়ার গলাকাটা মরদেহ গত ১৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তিনি খুন হন। সুলতানা সুরাইয়া নির্জন বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। খুন করার পর গ্রেপ্তারকৃতরা ওই বাড়ির ওয়াশরুমে ছুরি ও তাদের শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করেন। বাড়ির বাইরে গিয়ে তারা চুরি করা ১২ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন এবং দুটি মোবাইল ফোন মো. লাবু নিয়ে সিরাজগঞ্জ চলে যান।

পুলিশ সুপার জানান, মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পরপরই ভূঞাপুর থানা পুলিশের নিয়মিত তদন্তের সঙ্গে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে ওই নারীর চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও অপর আসামি আল আমিনকে পশ্চিম ভূঞাপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত