চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগ নেতারা জানান, গত ১ জুন হোটেলে খাবার টেবিলে বসাকে কেন্দ্র করে সিক্সটি নাইন ও সিএফসি গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই দিন সিক্সটি নাইনের কর্মী আকিব জাবেদের রামদার কোপে আহত হন শাখা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক রমজান হোসাইন। এর জের ধরে গতকাল শাহ আমানত ও শাহজালাল হলের সামনে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা শুরু হয়, একপর্যায়ে সেটা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন চবি মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। তিনি বলেন, আহত ছাত্রলীগ কর্মী ছয়জন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এর মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদাফ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের ঘটনার জের ধরে সিক্সটি নাইনের কয়েকজন কর্মী এসে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সিএফসি গ্রুপের ওমর, সীমান্ত, ফিরোজ নামে তিনজন কর্মী আহত হয়।
এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু ‘দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের র্যাগ ডে নিয়ে গ্রুপের জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এতে পরস্পরের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
চবি প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হাটহাজারী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হয়েছে। আমরা দুই গ্রুপের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
সিএফসি গ্রুপ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদাফ খানের নেতৃত্বে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারী এবং সিক্সটি নাইন গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর নেতৃত্বে সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
