ভারতকে তদন্তে সহায়তার আহ্বান ব্লিঙ্কেন-ট্রুডোর

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০১ এএম

কানাডায় খালিস্তানপন্থি শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যার পেছনে ভারতীয় এজেন্টদের হাত থাকার অভিযোগ তদন্তে দিল্লি অটোয়াকে সহায়তা করবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো যে অভিযোগ তুলেছেন, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই হত্যাকাণ্ড তদন্তে ভারতের কানাডার সঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আমরা চাই জবাবদিহি নিশ্চিত হোক।’ গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে ভারত-কানাডা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান তুলে ধরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের কানাডীয় সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি। শুধু পরামর্শই নয়, এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয়ও করছি।’

ব্লিঙ্কেনের এই মন্তব্যের আগে হরদীপ হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গত শুক্রবার ফের জোরালো দাবি করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি এও দাবি করেন, হরদীপ সিং হত্যাবিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য ভারতকে বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতের সহযোগিতা চায় তার দেশ।

গত শুক্রবার রাজধানী অটোয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, ‘গত সোমবার আমি (পার্লামেন্টে) যা বলেছি, সে-বিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য আমরা অনেক আগেই ভারতকে দিয়েছিলাম বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে। ব্যাপারটি খুবই গুরুতর এবং আমরা এই ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক কাজ করতে ইচ্ছুক। আমরা আশা করছি, ভারত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতা করবে।’

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে কানাডায় গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব অর্জনকারী হরদীপ সিং নিজ্জর ভারতের খালিস্তানপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী খালিস্তান টাইগার ফোর্স এবং শিখস ফর জাস্টিস কানাডা শাখার শীর্ষ নেতা ছিলেন। গত ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের রাজধানী ভ্যানকুভারের একটি গুরুদুয়ারার সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ৪৫ বছর বয়সী হরদীপ। এ ঘটনায় ভারতকে সরাসরি দায়ী করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কানাডার পার্লামেন্টে ভাষণ দেন ট্রুডো। এর জেরে ভারত কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য একটি বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করে। এ ছাড়া দুদেশই পরস্পরের একজন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। এমনকি কানাডার নাগরিকদের ভিসা দেওয়াও স্থগিত করে ভারত। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে তলানিতে ঠেকেছে উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। ভারতের অভিযোগ কানাডা সুনির্দিষ্টভাবে এ সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি। ট্রুডোর অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ মনে করে দিল্লি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত