সালমান এফ রহমান বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত খুব ভালো হয়েছে। কেননা, যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে এটা প্রয়োগ করা হবে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা সম্মেলন আগামীকাল পর্যন্ত চলবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে; সেটা সরকারও চায় এবং নির্বাচনে কোনো বাধা দিতে চায় না। আর তারা সহিংসতার কথা বলছেন, সরকার নির্বাচনে কোনো সহিংসতা চায় না; বরং বিএনপির পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার মাধ্যমে তারা তাদের এই টার্গেট সফল করতে চান। নির্বাচনে যারা বাধা দেবেন, সহিংসতা করবেন যুক্তরাষ্ট্র ভিসার বিধিনিষেধ তাদের ওপর আরোপ করবে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। কেননা, নির্বাচন কমিশন একশো ভাগ স্বাধীন। একসময় এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ছিল। এখন তা সম্পূর্ণ স্বাধীন। পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

ভিসানীতিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করেই ইউএসএতে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ ডিউটি ফি দিয়েই পণ্য দিচ্ছি। এক্ষেত্রে তো তারা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা ও যুক্তরাজ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, যেটা যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি।

আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা সম্মেলন সম্পর্কে সালমান এফ রহমান বলেন, পরিকল্পনাবিদদের আন্তর্জাতিক সেমিনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পরিকল্পনার ওপর খুবই গুরুত্বারোপ করছেন। সরকার ইতিমধ্যে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০, ঢাকা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করেছে। এখন উপজেলা মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও কাজ হচ্ছে। তিনি বলেন, পুরো এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে করতে হয়। সে জন্য এখন পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রধানমন্ত্রী কৃষিজমির ওপর খুবই গুরুত্বারোপ করছেন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর খাদ্যের ওপর চাপ পড়ল। এরপরও আমরা তুলনামূলকভাবে ভালো আছি, এর কারণ হলো খাদ্য আমরা নিজেরা উৎপাদন করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এক ইঞ্চি কৃষিজমিও যাতে অনাবাদি না থাকে। এজন্য পরিকল্পনা করে শিল্পায়ন ও কৃষিজমি রক্ষার বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত জায়গা থেকে ভালো কাজ করছে। তাদের কার্যক্রম সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছে।

ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, বৃষ্টির পানিতে ঢাকা তলিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। এটা অতীতের একটি সমস্যা, যেটা এখনো চলমান রয়েছে। পানি নিষ্কাশন বা নর্দমার সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিয়েও কাজ চলমান রয়েছে। একটা জিনিস কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, যে পরিকল্পনা করা হয় তার একটি হিসাব থাকে; কতটুকু তা নিয়ে ওই বিষয়ের উদ্দেশ্য পূরণ হবে। নরমাল বৃষ্টিতে ঢাকার নর্দমার পানি নিষ্কাশনে কোনো অসুবিধা হয় না। যখন অতিবৃষ্টি হয়, তখন সমস্যা হচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এ সমস্যা ইউরোপ, টোকিও, চায়না, লিবিয়াতেও একই রকম সমস্যা হচ্ছে। শুধু বৃষ্টিজনিত কারণে বন্যায় লিবিয়ার কত মানুষ মারা গেছে, যা সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। ঢাকায় পানি নিষ্কাশনের যত পরিকল্পনা করা হোক না কেন, অতিবৃষ্টি হলে তা আর কাজ করবে না। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এটা হয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাল গোর সম্প্রতি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এতটা প্রভাব পড়বে, তা আগে বুঝতে পারিনি। আমরাও সেটা লক্ষ করছি। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় ড্যাপ করা হয়েছে, তা নিয়ে কত সমালোচনা হয়েছে, প্রভাবশালী মহল কত চাপ দিল সরকারকে।

সারা দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এজন্য উপজেলাগুলোতেও বড় বড় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু, উন্নয়নের কারণে মানুষ এখন গ্রামে থাকতে চাই। ঢাকার দোহার উপজেলায় সম্প্রতি ১৪ তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আমি খবর নিয়ে জানতে পারলাম কোনো অনুমোদন তারা নেয়নি। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, এখানে তো কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়ার বিষয় নেই। আইনে সেটা থাকলেও চর্চা নেই। এ কারণে তারা অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। এভাবে হতে থাকলে সারা দেশে একই অবস্থা বিরাজ করবে। সরকার সেসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছে বলেই এখন নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ। লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত