তিন শিশুসহ বিষ খেয়েছেন মা সন্তানদের মৃত্যু

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:৫৫ এএম

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সেলিমগঞ্জের শান্তিপুর গ্রামে ভাতের সঙ্গে ইঁদুর মারার বিষ খেয়েছে তিন সন্তানসহ মা। এতে তিন সন্তানের মৃত্যু হয়। মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পুলিশ স্বামী জাহাঙ্গীরকে আটক করেছে।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো, মেয়ে সাফিয়া (১৬), ছেলে তামজিদ (১৫), শাহেদ (৫)।

জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার সেলিমগঞ্জের শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা যমুনার (৩৫) সঙ্গে স্বামী জাহাঙ্গীরের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামী ঠিকমতো কাজ করত না। ফলে পরিবারে অভাব নিত্যদিন লেগেই

থাকত। এ নিয়ে গতকাল রাতেও তুমুল ঝগড়া হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। এরই জের ধরে সকালে ভাতের সঙ্গে ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে সন্তানদের ভাত দেন যমুনা। খাওয়ার পরই শুরু হয় বিষক্রিয়া। শিশুদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। এসে দেখতে পায় সবাই মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে চিৎকার করছে।

পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

যমুনার স্বামী জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। তিনি বলেন, আমরা কিছু দিন ধরেই শুনছি তাদের পারিবারিক কলহ চলছে। কিন্তু সকালে শুনেছি যমুনাসহ তার ছেলেমেয়েরা ভাতের সঙ্গে বিষ খেয়েছে। আমার মনে হচ্ছে পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা তাদের বাঁচানোর জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু একটি শিশুকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাও বাঁচবে কি না তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। জাহাঙ্গীর কই আছে তা বলতে পারছি না।

শিশুদের মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম।

জামালগঞ্জ থানার ওসি দীলিপ কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা দুটো বিষয় নিয়ে কাজ করছি। মামলার আসামি কে হবে বাবা না মা। আর কে অভিযোগ দেবে, কারণ মা সন্তানদের বিষ দিয়েছে ভাতের মধ্যে। মা যদি বেঁচে যায় তা হলে আইনত মা দায়ী। যদি মা মারা যান তা হলে বাবা আসামি হবে। আমরা এখন আইন যা বলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এখন পর্যন্ত মা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত