চট্টগ্রামে সম্পত্তির জন্য ছেলের বাসায় হত্যার পর টুকরো টুকরো করা মো. হাসানের মরদেহের মাথার অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। মাথা ছাড়া দেহের আট টুকরোর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জানাজা শেষে তার নিজ বাড়ির ঘরের ভেতরে দাফন করা হয়েছে। এলাকার শত শত বাসিন্দার উপস্থিতিতে জানাজা শেষে বাড়ির ভেতরে কবর দিতে চাইলে বাড়িতে থাকা একমাত্র মেয়ে রাজিয়া বেগম অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে জনরোষের মুখে তা দিতে বাধ্য হয়।
দাফন শেষে নিহত হাসানের বড় ভাই মাহবুব আলী, দেলাল আহমদ, মো. কাসেমসহ এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে বাড়ির সম্পত্তির জন্য হাসানের জীবন গেল, সে বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে। যাতে কেউ আর এ সম্পত্তি ভোগ করতে না পারে।
এদিকে হাসান হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় তার স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গত রবিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘হাসান হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তার স্ত্রী ও বড় ছেলে। আদালতে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে। এ ছাড়া পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করে আদালত।’
নিহত মো. হাসানের মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানা এলাকার আকমল আলী সড়কের জমির ভিলার ৭ নম্বর বাসায় স্ত্রী ও বড় সন্তান মিলে হাসানকে খুন করে বলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে লাগেজ ও বস্তায় ভরে পতেঙ্গা ও আকমল আলী রোডের পাশে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িত নিহতের ছোট ছেলে শফিকুর ও তার স্ত্রী আনারকলি এখনো পলাতক। গত শনিবার সকালে নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হাসানের স্ত্রী ও বড় ছেলেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলীর স্ত্রী ও সন্তানরা জানান, ২৭ বছর হাসান পরিবারের বাইরে ছিলেন। এক বছর আগে তিনি পরিবারে ফিরে আসেন। আসার পর থেকে গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর বড়তলীতে থাকে থাকা সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন সন্তানরা। কিন্তু লিখে না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ছোট ছেলের বাসায় ডেকে এনে পরিবারের সবাই মিলে হাসানকে হত্যা করেন।
