সিগারেটের আগুনে পুড়ল কারখানা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:২০ এএম

রাজধানীর লালবাগে আগুনে পুড়েছে একটি তিনতলা ভবন। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে লাগা এ আগুন ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ভবনের দ্বিতীয়তলায় ছিল ডজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি নামে একটি কারখানা ও এর অফিস। ভবনটির তৃতীয়তলায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। আগুন লাগার পর সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা। প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ওই পরিবারের নারী-শিশুসহ ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ডজ কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই ভবনের দ্বিতীয়তলার যে অংশ থেকে আগুন ছড়িয়েছে, সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না। আগুন লাগার অন্য কোনো কারণও ধারণা করতে পারেনি ফায়ার সাভিস। তবে দ্বিতীয়তলায় যেসব শ্রমিক কাজ করেন, তারা ওই তলার একপাশে দাঁড়িয়ে ধূমপান করেন। তাদের ধূমপান করা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে প্রায় ১৫ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর আশপাশের স্টেশন থেকে একে একে আরও সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। আট ইউনিটের চেষ্টায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৪টায় সম্পূর্ণ নির্বাপণ হয়।

আগুন লাগার পর ভবনটির তৃতীয়তলায় আটকা পড়েন ডজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির মালিক জাকির হোসেনসহ (৬৫) তার পরিবারের ছয় সদস্য। অন্যরা হলেন জাকির হোসেনের স্ত্রী তসলিমা হোসেন (৬২), তাদের ছেলে মো. রাফি (৩৯), ছেলের স্ত্রী তাহসিন কারিম আনিকা (৩০), রাফির বড় বোনের মেয়ে জায়না হোসেন আফরিন (১৩) এবং তাদের বাসার গৃহকর্মী মাকসুদা বেগম (৬০)। হাসপাতালে আহতরা জানান, লালবাগ কেল্লার পেছনে আতশখানা লেনের রহমতউল্লাহ স্কুলের পাশে নিজেদের তিনতলা ভবনের তৃতীয়তলায় থাকেন তারা। দুপুরে আগুন লাগার সময় তারা সেখানেই ছিলেন। আগুন ছড়াতে থাকলে তারা বাসায় আটকা পড়েন। এ সময় প্রচণ্ড ধোঁয়ায় তাদের শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। এরপর প্রতিবেশীরা মই দিয়ে তাদের পাশের ভবনে নেন এবং সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, আহত এ ছয়জনের কারও শরীরই আগুনে পোড়েনি। সবাই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে।

ডজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির কর্মকর্তা আসলাম শেখ বলেন, ‘আগুনে আমাদের সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না। বিদ্যুতের কারণে আগুন লাগতে পারে বলে সন্দেহ করছে অনেকে। তবে দ্বিতীয়তলার যে অংশ থেকে আগুন ছড়িয়েছে সেখনো কোনো বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। এটা সিগারেট থেকে লেগেছে বলে আমরা ধারণা করছি। তার কারণ শ্রমিকরা ওইখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেত। তাদের সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই এ আগুন লাগতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন লাগার সময়টা ছিল নামাজের। আমরা নামাজ পড়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কেউ কেউ দুপুরের খাবারের জন্য বাইরে ছিল। এজন্য হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে এসে দেখি চারদিকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত