ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ‘দাদা সাহেব ফালকে’ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ওয়াহিদা রহমান। মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এই পুরস্কার ঘোষণা করেন। চলতি বছরের শেষেই পুরস্কার হাতে পাবেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
প্রবীণ তারকার এমন সম্মাননা প্রাপ্তিতে এক পোস্টে ভারতের তথ্যমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর লেখেন, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ওয়াহিদা রহমান এই বছর মর্যাদাপূর্ণ দাদাসাহেব ফালকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে জেনে আমি বিশাল আনন্দিত এবং সম্মানিত অনুভব করছি।’
আজ অভিনেত্রীর প্রথম সিনেমার নায়ক, কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দের জন্মশতবার্ষিকী। অভিনেত্রীর এ সম্মাননা প্রাপ্তির সঙ্গে এখানে একটি মিষ্টি সংযোগ রয়েছে।

দেব আনন্দের জন্মশতবার্ষিকীতে এমন সম্মাননা প্রাপ্তির ঘোষণায় দ্বিগুণ উচ্ছ্বসিত ওয়াহিদা রহমান। তিনি পিটিআইকে বলেন, ‘আমি দ্বিগুণ খুশি কারণ আজকে দেব আনন্দের জন্মদিন। আমি মনে করি, পুরস্কারটা উনার পাওয়া দরকার ছিল, আমি পেয়ে গেলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে আজকে উনার জন্মদিনের উদযাপন চলছে এবং আজকেই আমি এই সম্মানটি পেয়েছি। আমি সত্যিই অনেক খুশি এবং সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে এই সম্মানের জন্য বেছে নিয়েছেন। তাই এই উদযাপন সম্মাননা প্রাপ্তি এবং দেব সাহেবের ১০০তম জন্মবার্ষিকীর সংমিশ্রণ।’
১৯৫৬ সালে গুরু দত্তের ‘সিআইডি’ সিনেমা দিয়ে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন ওয়াহিদা রহমান। ছবিতে তার নায়ক ছিলেন দেব আনন্দ। দেব-ওয়াহিদা জুটি বেঁধে একসঙ্গে সাতটি সিনেমায় কাজ করেছিলেন। সেগুলো হলো- সলভা সাল, রূপ কি রানি চোরও কা রাজা, বাত এক রাত কি, কালা বাজার, গাইড এবং প্রেম পূজারি।

দেব আনন্দ ছাড়াও ওয়াহিদা জুটি বেঁধেছিলেন কিশোর কুমার, দিলীপ কুমার, অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র এবং সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে। অভিনেত্রীর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে পিয়াসা, কাগজ কে ফুল, চৌধাভি কা চাঁদ, সাহেব বিবি অর গোলাম, মৌমাছি বাদ, রাম অর শ্যাম, খামোশি , পাথর কে সানাম, ত্রিশুল, শাগুন, বাজি, মহান, নসীব এবং পালকি।
ওয়াহিদা রহমান অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ‘দিল্লি-৬’ , আমির খানের সঙ্গে ‘রং দে বাসন্তী’তেও কাজ করেছেন। তাকে শেষ দেখা গিয়েছিল স্কেটার গার্লে, ২০২১ সালে।
ওয়াহিদা রহমান ১৯৭২ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০১১ সালে পদ্মভূষণে ভূষিত হন। তিনি রেশমা অর শেরার জন্য ১৯৭১ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন। ১৯৬৬ সালে ‘গাইড’ এবং ১৯৬৮ সালে ‘নীল কামাল’র জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন ।
