বরগুনায় হৃদয় হত্যা মামলা

১২ শিশুকে ১০ বছর, চারজনের ৭ বছরের সাজা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৪১ এএম

বরগুনায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কিশোর সুজন হৃদয়কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার আলোচিত ঘটনায় হওয়া মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে মামলার ১৯ আসামির মধ্যে ১২ শিশুকে ১০ বছর ও ৪ শিশুকে ৭ বছর করে আটকাদেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া আসামি অন্য তিন শিশুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আটকাদেশ পাওয়া পলাতক তিনজন ছাড়া বাকি সব শিশু আদালতে উপস্থিত ছিল। রায় ঘোষণার পর আটকাদেশ পাওয়া শিশুদের স্বজনদের আহাজারিতে আদালত প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।

আদালতের রায়ে আটকাদেশ দেওয়া শিশুদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে এ শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে বরগুনা জেলা কারাগারে বাকি সাজা ভোগ করবে বলে উল্লেখ করা হয়। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। তবে ক্ষুব্ধ আসামিপক্ষ।

নিহত কিশোর হৃদয়ের মা ও মামলার বাদী ফিরোজা বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি খুশি। এখন দ্রুত এ রায় কার্যকর হলেই আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। এ ছাড়া বাকি প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’ কথাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ মে ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে হৃদয় তার কয়েকজন বন্ধুসহ বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের গোলবুনিয়া বাজারসংলগ্ন উত্তর পাশে জাফর সিকদারের বাড়ির পূর্বপাশে পায়রা নদীর তীরে একটি চীনা প্রকল্পের ব্লক ইয়ার্ডে ঘুরতে যায়। পূর্বশত্রুতার জেরে সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হৃদয়কে প্রথমে বরগুনা সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকাল ১০টার দিকে হৃদয় মারা যায়। নিহত হৃদয় বরগুনা পৌর শহরের চরকলোনি এলাকার চাঁদশী সড়কের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। সে বরগুনা সরকারি টেক্সটাইল ও ভোকেশনালে ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আটকাদেশ পাওয়া একাধিক শিশুর স্বজনের দাবি, তাদের সন্তানদের ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের সন্তানরা নির্দোষ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো যোগসাজশ নেই।

বরগুনার বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হৃদয় হত্যা মামলাটি বরগুনার আলোচিত ঘটনা ছিল। ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে হৃদয় তার কিছু বন্ধুসহ বেড়াতে যায়। তখন তার প্রতিপক্ষরা তাকে নির্মমভাবে ইটের টুকরো দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের রায় দিয়েছে। আমরা এ রায়ে খুশি।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছে আমরা সেটি সম্মান করি। তবে আমার মক্কেল এ মামলায় অপরাধী নয়। তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে আমরা এ রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত