শপথ নিয়েছেন দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা, মন্ত্রিসভার সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিরা, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ও তিন বাহিনীর প্রধানসহ সুপ্রিম কোর্টের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
শপথ নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধান সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নতুন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। গত ১২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। শপথ গ্রহণের পর দুপুর ১টার দিকে ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান প্রধান বিচারপতি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তিনি। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন।
দুপুর ২টার পর প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। সেখানে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের সংবিধান তৈরি হয়েছে। এই সংবিধানকে রক্ষা করা আমি এবং আমার সহকর্মীদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা সেই শপথ নিয়েছি এবং এই শপথে বলীয়ান থাকার জন্য আবারও এই শহীদ বেদিতে ফুল দিতে এসেছি।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এই স্মৃতিসৌধ আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শহীদদের কথা স্মরণ করে আমরা যেন আমাদের শপথে বলীয়ান থাকতে পারি।’
১৯৫৯ সালের ১১ জানুয়ারি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ওবায়দুল হাসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস, এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর আইন পেশায় যুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১২ সালের ২৩ মার্চ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য হিসেবে যোগদানের পর ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গত ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যান তিনি।
