প্রশান্ত মহাসাগরে কুক আইল্যান্ডস ও নিউই নামে দুটি দ্বীপকে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের’ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অঞ্চলে চীনকে আরও চাপে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চলতি সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দ্বীপ দুটিকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই দুটি দ্বীপরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই দুই দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হবে বলেও জানান তিনি।
এর ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ‘মুক্ত ও অবাধ’ হবে বলেও মন্তব্য করেন বাইডেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ এ অঞ্চলে অবৈধ মাছ ধরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটবে এই অঞ্চল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক জোট গঠনের তৎপরতার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। চীনের প্রভাব মোকাবিলার কথা বলে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চল নিজেদের একটি বলয় তৈরির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারতকে নিয়ে এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে কোয়াড নামের একটি জোট।
এবার ১৮টি দেশের আয়োজনে হোয়াইট হাউজের এ সম্মেলনে কুক আইল্যান্ড ও নিউইকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশ দুটির উন্নয়ন, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে চার কোটি ডলার অর্থসহায়তার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ঘোষণায় বাইডেন বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্তি ও নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লক্ষ্য অর্জনে আমরা ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে বেইজিংয়ের অভিযোগ, ন্যাটোর আদলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও একটি সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশকে ওয়াশিংটন পাশে টানার চেষ্টা করছে বলেও দাবি চীনের।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক জোট গঠন করা হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘি্নত করবে। নিরাপত্তা নিয়ে কারও কোনো উদ্বেগ থাকলে সেটা আলোচনা কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে কেউ যদি সামরিক জোট গঠনের তৎপরতা চালায়, সেটার বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান।
