বেড়েছে টিকা কমেছে মৃত্যু

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:১০ এএম

গত ১২ বছরে দেশে জলাতঙ্ক রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হারে কমেছে। ২০১০ সালের আগে এই রোগে বছরে ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যেত। চলতি বছরের জুনে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বেড়েছে জলাতঙ্ক টিকা নেওয়া কুকুর ও মানুষের সংখ্যাও। ২০১২ সালে যেখানে ৪৫ হাজার ৬৫৫টি কুকুরকে ও ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪৪ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছিল; সেখানে এই সংখ্যা এখন বেড়ে যথাক্রমে ২ লাখ ২২ হাজার ২২৪ ও ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮০১।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারণব্যাধি, যা কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে সংক্রমিত হয়। এছাড়াও বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর, বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে মৃত্যু অনিবার্য। তবে সময়মতো টিকা নিলে এ রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। কুকুর, বিড়াল, বানর, বেজি ও শিয়াল কামড় বা আঁচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষারযুক্ত সাবান পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধুতে হবে। এরপর

যথাসময়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে হবে।

আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জলাতঙ্কের অবসান, সকলে মিলে সমাধান’। জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কারক বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রয়াণ দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০০৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

সরকারি হাসপাতালে মিলছে টিকা : অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, রোগটি নির্মূলে ২০১০ সাল থেকে সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। বর্তমানে দেশের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও ৩৩৮টির বেশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এসব হাসপাতালে কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের ঘটনায় চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা এআরভি ও কামড়ের ধরন অনুযায়ী আরআইজি টিকা দেওয়া হচ্ছে। গত বছর প্রাণীর কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে চার লাখেরও বেশি রোগীকে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে।

কুকুরও পাচ্ছে টিকা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জলাতঙ্কের প্রধান উৎস কুকুরকেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় প্রথম রাউন্ড, ৩৭টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড এবং ৮ জেলায় তৃতীয় রাউন্ড ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে কুকুরকে প্রায় ২৭ লাখ ৭০ হাজার ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। এটি মানুষ ও প্রাণীদেহে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত