ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে রংপুরের পীরগঞ্জে হঠাৎ দেখা দিয়েছে বন্যা। বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তেমনি তলিয়ে গেছে কৃষকের বসতভিটা, জমির ধান, পটল, বেগুনসহ ২০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল।
উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর তীরবর্তী টুকুরিয়া, বড় আলমপুর ও চতরা ইউনিয়নের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি গ্রামের বাড়িঘর, ক্ষেতের ফসল ও রাস্তাঘাটসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর, রামকানুপুর, মেরিপাড়া, মোনাইল, দক্ষিণ দুর্গাপুর, সুজারকুঠি, টিওরমারী, দুধিয়াবাড়ি, বিছনা, পার হরিণা, টুকুরিয়া, পার ভিটেপাড়াসহ ২০টি গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে।
চতরা ইউনিয়নের পার কুমারপুর, পার কুয়াতপুর, মাটিয়ালপাড়া, ঘাষিপুর সন্দলপুর, গোবিন্দপাড়া, কুয়াতপুর হামিদপুর, সুরানন্দপুর, গিলাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বড় আলমপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর, তাতারপুর, শিমুলবাড়ি, ধর্মদাশপুর, ষোলঘরিয়া, হোসেনপুর, রসুলপুরসহ অনেক গ্রাম এখন পানির নিচে।
ওইসব এলাকার মধ্যে পার বোয়ালমারি, মেরিপাড়া, সুজারকুঠি, বিছনা, রামকানুপুর, জয়ন্তীপুর, তরফমৌজা, পাড় কুয়াতপুর বিহারীপাড়া, পাড়কুমারপুর প্যাছোরপাড়া, রসুলপুর, হোসেনপুর, নামা ঘাসিপুরসহ অনেক গ্রামের বাড়িঘরে এখন কেবল পানি আর পানি। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরপানি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে এখনো বাড়িতে অবস্থান করলেও অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন নিরাপদ উঁচু জায়গায়। বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন ছোট রসুলপুর গ্রামের বৃদ্ধ লুৎফর রহমান।
চতরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) নুর মোহাম্মদ গোল্লা জানান, ইতিমধ্যে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে বোয়ালগাড়ি স্কুলসহ বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকের ঘরে রান্না করার কোনো সুযোগ নেই।
এ দুর্যোগে স্থানীয় সাংসদ স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে টুকুরিয়া ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা পায়নি পানিবন্দি পরিবারগুলো।
পাড় কুয়াতপুর বিহারীপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ, অবিনাশ, নিরাপদ, নামা ঘাসিপুরের শামসুর রহমান, কুয়াতপুরের মতিন ম-লসহ অনেকে বলেন, ১০ কেজি করে চাল এবং সঙ্গে ডাল, তেল ও শুকনো খাবার পেয়েছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা বাস্তরায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যদিও বন্যা তেমন একটা হয়নি তবুও তাদের তালিকা করে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি। এ ছাড়াও ডাল, তেল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
