ষাঁড় নেই ষাঁড় প্রজননকেন্দ্রে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৩৭ এএম

সাড়ে তিন বছর আগে খুলনায় নির্মিত হয়েছে বুল স্টেশন। এর নির্মাণে খরচ হয়েছে ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। স্টেশনটির উদ্দেশ্য ষাঁড় উৎপাদন। এ উদ্দেশ্যে স্টেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ষাঁড় রক্ষকসহ নয়জনকে। অথচ স্টেশনে কোনো ষাঁড় নেই। রোদ-বৃষ্টিতে ধুঁকছে স্থাপনাটি। প্রতি মাসে স্টাফদের বেতনসহ পরিচালনাব্যয় বাবদ গচ্চা যাচ্ছে অন্তত ২ লাখ টাকা। ষাঁড় প্রজননকেন্দ্রটির ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দুধ ও মাংসের গুরুত্ব অপরিসীম। খাদ্যনিরপত্তার ক্ষেত্রে প্রাণিজ আমিষ বিশেষ করে দুধ ও মাংসের অনেক ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সালের ৩ মে খুলনার চক হাসানখালী মৌজায় (মোস্তফার মোড়ে) শুরু হয় ‘আঞ্চলিক কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার কাম মিনি বুল স্টেশন’ নির্মাণ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এটির নির্মাণ শেষ হয়। জমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হয় ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ১২০ বর্গমিটারের অফিস-কাম-ল্যাব ভবন, ৭১৮ বর্গমিটারের বুল কাফ শেড (৫০টির জন্য), ৭১৮ বর্গমিটারের গ্রোয়িং বুল কাফ শেড (৩০টির জন্য), ১০০৪ বর্গমিটারের বুলশেড, ৪৮ বর্গমিটারের সিমেন কালেকশন শেড, ৭০০ বর্গমিটারের গবাদি পশুর খাদ্য গুদাম, ২৮ বর্গমিটারের আইসোলেশন শেড, ২০০ বর্গমিটারের এক্সারসাইজ ইয়ার্ড, ১৬০০ বর্গমিটারের বাউন্ডারি ওয়ালসহ ইন্টারনাল আরসিসি রোড, ১২ বর্গমিটারের ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক ও পাম্প হাউজ।

স্টেশনের সায়েন্টিফিক অফিসার সুমন সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা হস্তান্তর করা হয়েছে। গত জুনে নয়জন লোককে নিয়োগও করা হয়েছে। নিয়োগকৃত জনবলের মধ্যে রয়েছে অফিসার, নৈশপ্রহরী ও ষাঁড়রক্ষক। তাদের বেতনও পরিশোধ করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, ৩০টি ছোট ষাঁড় এ স্টেশনে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ষাঁড়গুলো বড় হলে প্রধান অফিস ঢাকার সাভারে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে বীজ উৎপাদন করে জেলা-উপজেলায় বিতরণ করা হবে। তবে স্টেশনের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এখানে এখনো কোনো ষাঁড় আসেনি।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন বছর আগে নির্মিত কেন্দ্রটি রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। অনেক লোহার উপকরণে মরিচা পড়েছে। শেড ও ফাঁকা জায়গায় জন্মেছে লম্বা লম্বা ঘাস। নিয়োগপ্রাপ্ত লোকজন শুয়ে-বসে অলস সময় পার করছে। কয়েকজন স্টাফ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বুশরার মাধ্যমে তারা নিয়োগ পেয়েছেন। বেতন ঠিকমতোই পাচ্ছেন। তবে ষাঁড় কবে দেওয়া হবে সেটি জানানো হয়নি।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্টাফদের বেতন ও পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা স্টাফদের বেতন পরিশোধেই যায়। বাকি টাকা পরিচালনাব্যয়।

খুলনার ‘সুজন’ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘সরকারের উদাসীনতার কারণেই এ অবস্থা। প্রকল্পের নামে অর্থের অপচয় হচ্ছে। এটি দুর্নীতির শামিল।’ তিনি জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ষাঁড়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। অথচ সেদিকে তাদের মন নেই। জনগণের অর্থ ইচ্ছেমতো খরচ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রণজীতা চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘স্থাপনা নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ার আগপর্যন্ত তারা মনিটরিং করেছেন। পরে স্থাপনা কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রে হস্তান্তর হয়েছে। এখন তারা পরিচালনা করবেন।’

সায়েন্টিফিক অফিসার সুমন সরকার বলেন, ‘রাজস্ব খাতের ব্যয় থেকেই স্টেশন পরিচালিত হবে। কার্যক্রম শুরু ও ষাঁড় আসার ব্যাপারে এখন নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত