টানা বৃষ্টিতে রাজশাহী শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নগরীর নিচু এলাকাগুলো রাত থেকেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িতেই ঢুকে পড়েছে পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। পানি জমে যাওয়ায় শহরের বর্নালীমোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নৌকা চলাচল করেছে।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীতে বৃষ্টি শুরু হয়। রাতভর একটানা এই বৃষ্টি চলেছে। বৃহস্পতিবার সারাদিনেও থামেনি বৃষ্টি। এদিন সারাদিনই কখনো কিছুটা ধিরে আবার কখনো ঝুম বৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে পুরো মাস জুড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এক দিনের বৃষ্টির পরিমাণই তার কাছাকাছি। আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান মতে, রাজশাহীতে সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি হয়েছে ২৫৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার। আর বুধবার রাত সাড়ে দশটা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৪৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে একটানা এত বৃষ্টিপাত এটিই প্রথম।
এদিকে, বৃষ্টির প্রভাবে রাজশাহী নগরীর অনেক এলাকা এখন জলমগ্ন। নগরীর বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকেই শহরের রাস্তায় পানি জমে যায়। নগরীর অনেক বাড়িতেও পানি জমে যায়। ড্রেন উপচে পানি ছড়িয়ে পড়ে রাস্তা ও ঘরবাড়িতে। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বেশ কিছু রাস্তায় হাঁটুপানি দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো রাস্তায় জমেছে কোমর পানি। নগরীর ব্যস্ততম সাহেববাজারেও জমেছে হাঁটু পানি।
নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় থাকেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, বুধবার রাত ২টার দিকে ড্রেন উপচে বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এরপরই বাড়ির সবাই মিলে আসববাবপত্র সরানোর কাজ শুরু করি। পানি বাড়তেই থাকে। বিছানা থেকে নামলেই এখন পানি। বাড়িতে রান্না করার ব্যবস্থা নেই। সারাদিনে পানি কমেনি বরং বেড়েছে। জানি না এই দুর্ভোগের শেষ হবে কবে।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় হাসপাতালে আসা লোকজনসহ ওই এলাকায় চলাচলকারী লোকজনের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সাহেববাজারে আসা লোকজনের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না সারাদিনই। নগরীর এমন কোনো ওয়ার্ড নেই যেখানে জলাবদ্ধতা নেই। অনেক এলাকায় রাস্তার উপরে মাছ ধরতে দেখা গেছে। পুকুর ডোবা ভেসে যাওয়ায় সেখানকার মাছও ভেসে গেছে। এ কারণে মাছ ধরাও পড়েছে। নগরীর বালিয়াপুকুর এলাকায় রাস্তার উপরে জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা গেছে।
নগরীর বর্ণালী মোড়ের পেছনে কলাবাগান এলাকার রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই রাস্তায় সকাল থেকে নৌকা চলাচল করতে দেখা গেছে। ছোট্ট নৌকায় ৪/৫জন করে নারী পুরুষ নিয়ে রাস্তা পার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় থাকা ইউসিসি কোচিং সেন্টারের পক্ষ থেকে এই নৌকাটি দেয়া হয়েছে। মূলত তাদের কোচিং এ আসা ছাত্র ছাত্রীদের সুবিধার্থে তারা সকাল থেকে এই নৌকাটি ব্যবহার করেন। তবে, ছাত্রছাত্রী ছাড়াও ওই এলাকায় এসে দুর্ভোগে পড়া মানুষরা নৌকার সহায়তা নিয়েছেন।
এলাকার যুবক সাদিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় পানি জমে যায়। একটু বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে। আর গত রাতে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় এখন যানবাহন চলাচলই করতে পারছে না। এই রাস্তার পাশের ঘরবাড়ির নিচ তলাতে এখন হাঁটু পানি।
দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ নগরীতে চলাচলকারী মানুষ। বৃষ্টির মধ্যে বেড়ে গেছে রিকশা অটো রিকশার ভাড়াও। রিকশা চালক জামিলুর রহমান বলেন, শুধু ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু পানি জমে যাওয়ার কারণে যে আমাদের কত পথ ঘুরে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে হচ্ছে সেটা কেউ দেখছেন না। ১ কিলোমিটারের রাস্তা দেখা যাচ্ছে ২/৩ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। আবার রাস্তায় পানি জমে থাকায় ভয়ে ভয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে কারণ কখন যে ব্যাটারি পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে তারও তো ভরসা নাই।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার বলেন, রাজশাহীতে এখন ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি। শহরের পানি নদীতে নামার জন্য যে পয়েন্ট আছে সেটা দুই থেকে আড়াই ফিট ব্যাসের। দ্রুত পানি নামছে না। এটি বড় করতে হবে। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাদের সাথে আমরা কথা বলেছি। তারা এগুলো নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আমরা কাজ করছি। আমরা ড্রেনগুলো পরিষ্কার করছি। আশা করছি নতুন করে বৃষ্টি না হলে দ্রুতই পানি নেমে যাবে। আর বৃষ্টি চলতে থাকলে কিছুটা সময় লাগবে।
