চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই উপগ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর একটি খাবারের দোকানে কথা-কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে জড়ানো দুটি পক্ষ হলো সোহরাওয়ার্দী ও শাহজালাল হলের যথাক্রমে বিজয় ও সিক্সটি নাইন নামের ছাত্রলীগের দুই উপগ্রুপ।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাসের একটি হোটেলে খাবার খাওয়ার পর টেবিল ছেড়ে ওঠার সময় সিক্সটি-নাইনের কর্মী মোহাম্মদ আজমীরের হাতের ধাক্কা লেগে টেবিলের ওপরে থাকা ডালের বাটি পড়ে যায়। এ বিষয়টি নিয়ে বিজয়ের কর্মী মো. মাহীর চৌধুরীর সঙ্গে আজমীরের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সেটা হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। এরপর দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সিক্সটি নাইনের কর্মীরা শাহ জালাল হলের সামনে এবং বিজয় উপগ্রুপের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী মোড়ে অবস্থান নেয়। উভয়পক্ষই পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। তিনি বলেন, ‘আমরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’ কেউ গুরুতর আহত হয়নি বলে তিনি জানান।
এক ঘণ্টা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল বডি।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হতে পারে, এমন আশঙ্কায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইন উপগ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘খাবার খেতে গিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। পরে নেতারা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছেন।’
বিজয় উপগ্রুপের নেতা শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘এটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। আমি চেয়েছি ঝামেলাটা না বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঝামেলায় জড়িয়েছে। তাদের সিনিয়রদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি।’
সিক্সটি নাইন উপগ্রুপটি সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং বিজয় উপগ্রুপটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
