স্ট্রোক প্যারালাইসিস পরবর্তী করণীয়

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩১ এএম

প্রশ্ন : স্ট্রোক কী?

উত্তর : স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের যে অংশ শরীরের বিভিন্ন অংশের নড়াচড়ার কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে তা বিকল হয়ে পড়লে তাকে স্ট্রোক হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্ট্রোক দুই ধরনের ১. রক্তক্ষরণজনিত এবং ২. রক্তস্বল্পতাজনিত। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কের ওই অংশে রক্ত ছড়িয়ে পড়লে অংশটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিকল হয়ে পড়ে। একইভাবে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি চিকন হয়ে গেলে বা অন্য কোনো কারণে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হলে মস্তিষ্কের আক্রান্ত নালি যে এলাকায় রক্ত সরবরাহ করত তা রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে এলাকাটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিকল হয়ে পড়ে। এখন, এই বিকল এলাকাগুলো যেসব কার্যক্রম চালনা করত (যেমন হাত পায়ের নড়াচড়া, প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি) তা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রোগী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়। রোগের ভয়াবহতা নির্ভর করে মস্তিষ্কের কতটুকু অংশ আক্রান্ত হয়েছে তার ওপর।

প্রশ্ন : কী চিকিৎসা প্রয়োজন?

উত্তর : প্রাথমিক দায়িত্ব হলো রোগীর জীবন বাঁচানো। রোগীকে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্র আছে এমন হাসপাতালে নিতে পারলে রোগীর জীবন বাঁচানো সহজ। কোনো কোনো রোগী সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়ে, প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, খাবার গ্রহণ করতে পারে না। আবার অনেক রোগীর কেবল একপাশ অবশ হয়ে যায়। তাই উপসর্গের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার ধরন। রক্তচাপ, বহুমূত্র, প্রসাব-পায়খানা, খাদ্যগ্রহণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাও শুরু করতে হবে।

প্রশ্ন : কী ধরনের ফিজিওথেরাপি করাতে হবে?

উত্তর : প্যারালাইসিস রোগীর ফিজিওথেরাপি তিন ধাপে বিভক্ত। প্রথম দিকে মাংসপেশিগুলো শিথিল থাকে। এ সময় রোগীর অবশ অংশের নড়াচড়ার ওপর খুব জোর দিতে হবে। দিনে কমপক্ষে তিনবার ফিজিওথেরাপি করাতে হবে। রোগীর পিঠে যাতে ঘা না হয়ে যায় সে জন্য বিশেষ ধরনের বিছানার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর রোগীর অবস্থান পরির্বতন করে দিতে হবে। ধীরে ধীরে রোগীর আক্রান্ত অংশের মাংসপেশিগুলো শক্ত হতে পারে। এ সময় অবশ্যই ফিজিওথেরাপির ধরন পাল্টাতে হবে। দক্ষ হাতে মাংসপেশির আচরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। হাত-পা যাতে বেঁকে না যায় সেজন্য স্পিøন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগীকে শুইয়ে রাখা চলবে না।  বসাতে হবে, সম্ভব হলে হাঁটাতে হবে। এক সময় রোগী সেরে উঠতে শুরু করলে তাকে দৈনন্দিন কাজের উপযোগী করে তুলতে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত