বাংলাদেশ বিমানের সাবেক সিইও এবং এমডি ড. এম এ মোমেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হলো। বিষয়টিসহ বিমান বাংলাদেশ ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকীয়
বিভাগের সাঈদ জুবেরীর সঙ্গে কথা বলেছেন
দেশ রূপান্তর : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হলো, আপনি কীভাবে দেখছেন?
ড. এম এ মোমেন : স্বাগত জানিয়েই প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় বলছি : রেলওয়ের প্রধান স্টেশন কমলাপুর থেকে সরিয়ে গাজীপুরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি পুরনো এবং যৌক্তিক। ২০০৫ সালে একটি কমিটির প্রধান হিসেবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা সুপারিশ করতে বাধ্য হই সরানোর কাজটি বিলম্ব করতে হবে। কারণ রেলওয়ে কার্গোর জন্য বিশ^ব্যাংকের আর্থিক ঋণে আট ফুট গভীর যে ডিপ পেভমেন্ট নির্মিত হয়েছে সে অর্থ তখনো অপরিশোধিত। আমাদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মিত প্রশংসনীয় স্থাপত্যশৈলীর তৃতীয় টার্মিনাল আমাদের জন্য এমনই একটি ‘ডিপ পেভমেন্ট’ ধরনের ফাঁদ রচনা করল কিনা, ভাবা দরকার।
আমার জন্মস্থান তেজগাঁও এরোড্রামের কাছাকাছি হওয়ায় প্রিয় স্থাপনাটি যখন কুর্মিটোলায় স্থানান্তরিত হয় দুঃখ পেয়েছিলাম। নবনির্মিত এয়ারপোর্টের উত্তরে তখন কেবল বিরানভূমি। এখন ঢাকা শহরের কেন্দ্র গুলিস্তান কিংবা মতিঝিল নয়, অর্ধেক শহর এয়ারপোর্টের লাগোয়া উত্তরে ও পূর্বে, পশ্চিমেও। এয়ারপোর্টটি শহরের কেন্দ্রস্থলে। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের কর্মী হিসেবে আমরাই ছিলাম এয়ারপোর্টের সর্বাধিক বাণিজ্যিক ব্যবহারকারী। শহরের কেন্দ্রে এয়ারপোর্ট থাকা ঠিক হবে না, এয়ারপোর্টের ক্যাপাসিটি স্যাচুরেটেড হয়ে আসছে, বেসামরিক আকাশ পরিবহনের অবিশ্বাস্যরকম বিকাশ ঘটছে কাজেই নতুন বড় এয়ারপোর্টের দাবিটি ছিল সময়ের এবং প্রয়োজনের। বর্তমান সরকারই সাড়াও দিয়েছিল, কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কেন তা থেমে যায় জানা নেই। আগেও আলোচনা হয়েছে ‘এভিয়েশন হাব’ করতে কুর্মিটোলার এয়ারপোর্ট যথেষ্ট নয়, এটা হবে ডমেস্টিক ও রিজিওনাল এয়ারপোর্ট, নতুন বৃহৎ এয়ারপোর্ট হবে গ্লোবাল। বহু ব্যয় করা ‘স্ট্যাটাস প্রজেক্ট থার্ড টার্মিনাল’ এক সময় কমলাপুরের ডিপ পেভমেন্টের মতোই নতুন বিমানবন্দর আটকে দেওয়া প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।
দেশ রূপান্তর : কেন?
ড. এম এ মোমেন : বিনিয়োগ র্যাশনালাইজ করতে হবে বলে। তাত্ত্বিকভাবে ধরে নিই থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি অপারেশনাল হলো। বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য আইকাওর ক্রম-পরিবর্তনশীল বিধিবিধানে চারপাশের স্থাপনার জন্য যে ‘হাইট রেস্ট্রিকশন’ আরোপিত হবে তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কী হবে তা কজন অবহিত হয়েছেন? বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণস্থলের কাছে জেট-এর কার্বন নিঃসরণ অধিক, একটি সাধারণ হিসেবে জেট উড়োজাহাজ মাইলপ্রতি ৪.৫ কিলোগ্রাম কার্বন নিঃসরণ করে। প্রতি কিলোগ্রাম জেট ফুয়েল ব্যবহৃত হয়ে ৩ কিলোগ্রামের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন করে। কার্বন শোষণের উপযুক্ত আয়োজন না থাকলে যে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শহরের মানুষ পড়বে এবং সে জন্য যে ব্যয় হবে তাও বিবেচনায় এনে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা দরকার।
দেশ রূপান্তর : এই এয়ারপোর্ট সম্পর্কে সাধারণ ধারণা কী?
ড. এম এ মোমেন : কাতার এয়ারওয়েজের সিইও আকবর আল বাকের অত্যন্ত সফল ব্যবস্থাপক এবং এয়ারলাইন পাইলট। তিনি উড়োজাহাজ চালিয়ে কুর্মিটোলাতে অবতরণ করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি আমাকে ঢাকা এয়ারপোর্টের ‘ভালনারেবিলিটি’র কথা বলেছেন, এটা সবচেয়ে অরক্ষিত এয়ারপোর্টগুলোর একটি। তারপর এয়ারপোর্টের মালিক বেবিচকের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। সীমিত পরিসরের এয়ারপোর্টে বহু মূল্য টার্মিনাল সংযোজনের চেয়ে বৃহৎ পরিকল্পনার আওতায় নতুন এয়ারপোর্ট নতুন টার্মিনালই ছিল কাম্য।
দেশ রূপান্তর : আমরা জানি ইথিওপিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর তাদের বিমানবন্দর দিয়েই একটা বিশাল আর্থিক ও ভৌগোলিক সুবিধা অর্জন করেছে। তারা হাব হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সে সম্ভাবনা কতটুকু?
ড. এম এ মোমেন : বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একে বেসামরিক বিমান পরিবহনের উৎকৃষ্ট একটি হাব হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। সাইকেলের চাকার দৃশ্যটি মনে করুন এটাই ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেল। দোহা এয়ারপোর্টের একটি হিসাবে ২০২০-এর শুরুতে কেবল কাতার এয়ারওয়েজের দৈনিক ৪৭১টি ফ্লাইট পৃথিবীর ১৪০টি গন্তব্যে আসা-যাওয়া করেছে। এর মধ্যে ১৬ থেকে ২১ ঘণ্টার ফ্লাইট ১২৮টি, বার্ষিক যাত্রী পরিবহন ৩ কোটি ছাড়িয়ে।
হাব হতে হলে এয়ারপোর্টে বহুসংখ্যক উড়োজাহাজ বাণিজ্যিক লাভের জন্য ওঠানামা করবে। এয়ারপোর্টে উড়োজাহাজ কেন আসবে? সাধারণ উত্তর পয়েন্ট টু পয়েন্ট যাত্রী আনা-নেওয়া করতে; ট্রানজিট যাত্রী আনা-নেওয়া করতে, কার্গোর বেলাতেও তাই আর টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং জেট ফুয়েল ভরতে (রিফুয়েলিং), ছোটখাটো প্রয়োজনে মেরামত করতে। বড় আকর্ষণ হচ্ছে তুলনামূলকভাবে সস্তা জ্বালানি। এমনকি আধুনিক বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ প্রায় ১৩০ টন জেট ফুয়েল ধারণ করে। পুরনো ৭৪৭-এর দ্বিগুণ। ঢাকায় ফুয়েলের দাম অন্য এয়ারপোর্টের চেয়ে বেশি। ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুর থেকে ট্যাঙ্কারিং করে আনা তেলও (বাড়তি ওজনের লোড পেনাল্টির পরও) লাভজনক হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল যদি বিস্ময়কর স্থাপনা হিসেবে আধুনিক সপ্তাচার্যের একটিও হয়, জ্বালানি সুলভ না হলে এয়ারলাইনগুলো সহজে ঢাকামুখো হবে না।
দেশ রূপান্তর : সিঙ্গাপুর আর ইথিওপিয়া?
ড. এম এ মোমেন : জ্বালানি, যাত্রী এবং অপর সব সুবিধা উপেক্ষা করলেও পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টার হচ্ছে সিঙ্গাপুরে; জাহাজের মানসম্মত মেরামতসহ সব বাধ্যতামূলক চেক সেখানে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশল দপ্তরের সক্ষমতা যদি আরও বাড়ানো হয় মেরামতের জন্য কটা উড়োজাহাজ এয়ারপোর্টে অপেক্ষমাণ রাখতে পারবেন? সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের সাবসিডিয়ারি এসআইএ ইঞ্জিনিয়ারিং ৮০টি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ মেরামত করে এবং ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে লাইনসাপোর্ট দিয়ে থাকে।
রাজনীতির বাগাড়ম্বর আর প্রযুক্তির বাস্তবতা এক নয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বিদেশিরা খুব সহজে বাংলাদেশের ভিসা পায় না, ট্রানজিট যাত্রীর ঢাকা শহর দেখার প্রশ্নে ডিসইনসেনটিভই বেশি। দেশটি দরিদ্র হলেও ইথিওপিয়ার এয়ারলাইনসটি বিখ্যাত, আদ্দিস আবাবা এয়ারপোর্টের দুটি টার্মিনাল ১১টি গেট, ১ কোটি ২০ লাখের বেশি যাত্রী ওঠানামা করে; দুই টার্মিনালে আমাদের ৮০ লাখ সহজ হিসেবে ক্যাপাসিটি আন্ডার-ইউটিলাইজড। এয়ারপোর্ট, টার্মিনাল ইত্যাদি অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনা। থাইল্যান্ডে যে সেনা অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হন তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্টের নির্মাণ দুর্নীতি।
দেশ রূপান্তর : ঢাকার এভিয়েশন হাব হতে প্রতিবন্ধকতাগুলো কী?
ড. এম এ মোমেন : ঢাকা অবশ্যই অন্যতম এভিয়েশন হাব হয়ে উঠতে পারে যদি : (ক) এয়ারলাইনসগুলো বস্তুগত ও অবস্তুগত সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি পায়, (খ) জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হয়, (গ) এয়ারপোর্ট ও বিমান পরিবহনভিত্তিক বাণিজ্য সরকারি দল, উপদলের প্রভাবমুক্ত থাকে (স্মর্তব্য, সরকারি দলের হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ও এমিরেটসের কৌশলগত অংশীদারত্ব ভেঙে যায়), (ঘ) এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং আন্তর্জাতিক মানের হয়, সেবাসুলভ হয়, (ঙ) বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ীমূল্যে ভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়, (চ) এয়ারপোর্ট পরিচালনায় সঠিক দায়িত্ব পেশাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত হয় (মন্ত্রীদের আত্মীয়স্বজনদের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরুতেই নস্যাৎ করতে হবে।)
হাব করে তুলতে এয়ারলাইনসগুলোকে ঢাকামুখী করতে প্রণোদনা দিতে হবে। এয়ারলাইনস যদি যাত্রী না পায় তাহলে আসবে কেন? পয়েন্ট টু পয়েন্ট যাত্রায় দরিদ্র যাত্রীকে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বিমান কিংবা অন্য কোনো এয়ারলাইনসের কম দামের টিকিটের ওপর ভরসা করতে হয়। এভিয়েশন ব্যবসাটা ইকোনমি ক্লাস যাত্রীনির্ভর নয়; বিজনেস ক্লাস যাত্রীনির্ভর।
দেশ রূপান্তর : যাত্রীরা আমাদের বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। আপনার মন্তব্য কী?
ড. এম এ মোমেন : অভিযোগ মোটেও মিথ্যা নয়, তদবির করে, উৎকোচ দিয়ে এয়ারপোর্টে যাদের চাকরি ও পদায়ন হয়, তাদের কাছে পেশাদার আচরণ আশা করা সমীচীন নয়। তবে ব্যবস্থাপনা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে পারলে হায়ার অ্যান্ড ফায়ারের ভয়ে এটা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে।
এয়ারপোর্ট সেবা নিয়ে যাত্রীদের মূল্যায়নে সেবাদাতার আচরণ, ঘুষ গ্রহণ, লাঞ্ছনা ইত্যাদি চোখে পড়বে বেশি। কাজেই এই ইমেজ থেকে বের করে না আনতে পারলে হঠাৎ করে একদিন বিজনেস ক্লাস বা ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রী ঢাকায় আসবেন মনে করার কারণ নেই। ঢাকা কি পর্যটক টানার মতো আদৌ কোনো আকর্ষণীয় শহর?
দেশ রূপান্তর : বিমানের লাভজনক না হতে পারা এবং সেবা নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ বিবেচনায় নিয়ে এক্ষেত্রে বেবিচকের দায় কতটা?
ড. এম এ মোমেন : বেবিচক যত বেশি ছাড় দেবে বিমান তত বেশি অপেশাদারি আচরণ করবে। সে জন্য বিমান বোর্ডে বেবিচক প্রতিনিধি থাকা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট সৃষ্টি করে।
দেশ রূপান্তর : কিছুদিন আগে একটি শিশু নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে বিমানে চড়ে বসে। অন্যদিকে তার আগে বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া প্রায় ৫০ কেজি সোনা চুরি যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন মনে করেন?
ড. এম এ মোমেন : এটাই তো সূচক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ।
দেশ রূপান্তর : যাত্রীসেবার বিষয়টি বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কি সুফল পাওয়া যাবে?
ড. এম এ মোমেন : যাত্রীসেবা বিদেশি কোম্পানিতে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পনেরো বছর আগেও মন্ত্রীর মুখে শুনেছি, আশা করছি যাত্রী প্রতিযোগিতামূলক সেবা পাবে। বাংলাদেশ বিমানেও তো বিদেশি প্রধান নির্বাহী নেওয়া হয়েছিল, তিনি মন্ত্রীর ভাষায় কথা বলতেন, বাণিজ্যের ভাষায় নয়। পেশাদার বিদেশি কোম্পানি হলে সুফল মিলবে, যদি তাদের বখরা দিতে না হয়, এ কারণে শ্রীলঙ্কা সফল হয়নি।
আমি একদিকে থার্ড টার্মিনালের জয়গান করছি, অন্যদিকে ইতিহাদ ঢাকা থেকে অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ চলে গেছে, একটি এয়ারলাইনস বলেছে ব্যবসালব্ধ অর্থ নিজ কোম্পানিতে পাঠাতে অসুবিধা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ শেষ হলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরের সারিতে নাম লেখাবে শাহজালাল। ভবনটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। এ নিয়ে কিছু বলতে চান?
ড. এম এ মোমেন : রোহানি বাহারিন বিশ^খ্যাত। বিমানের নতুন বোয়িং ৭৭৭-এর সিটের হাতলভাঙার সংবাদও পত্রিকায় এসেছে, থার্ড টার্মিনালের বেলাতেও তাই হতে পারে। এটা কেবল উদ্বোধনের দিনের ইটপাথরের স্থাপনা নয়, খ্যাতিনির্ভর করবে রক্ষণাবেক্ষণের গুণ আর ব্যবস্থাপনার মানের ওপর। তা ছাড়া, মনে রাখতে হবে লুই আই কানের নকশার উপযুক্ত মর্যাদা কিন্তু আমরা দিতে পারিনি বা দেইনি।
দেশ রূপান্তর : পুরো কাজ শেষ না করে, আংশিক উদ্বোধন কি নির্বাচনী চমক? এর ফলে বাকি কাজ শেষ করতে কি ঢিলেঢালা ভাব আসতে পারে? একই চিত্র দেখলাম মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রেও।
ড. এম এ মোমেন : পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনের রেওয়াজও আছে, সে তুলনায় আংশিক হলেও এটা নিশ্চয়ই অতিকায়।
দেশ রূপান্তর : এই থার্ড টার্মিনাল বিমানবন্দর পরিষেবায় কী ধরনের সুবিধা ও সম্ভাবনা তৈরি করল?
ড. এম এ মোমেন : তাত্ত্বিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের, বাস্তবে তা নির্ভর করবে অটোমেশনের গুণাগুণ এবং মেশিনের পেছনের মানুষটির ওপর।
