যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২২ শতাংশ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৪২ এএম

চলতি বছরে সারা বিশ্ব থেকেই তৈরি পোশাক আমদানি কমিয়ে দিয়েছে একক বৃহত্তম বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক মন্দার কারণে ২০২৩ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরমধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মন্দায় বৈশ্বিক ঋণ সংকট, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সেস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে; যার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশে^র সব দেশের পোশাক রপ্তানিই কমেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে চীন ও পাকিস্তানের। ওটেক্সার তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের প্রথম ৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৬৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ২২.৭৭ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক বিবেচনায়, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ ২২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ইউনিট থেকে কমে ১৬ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ইউনিটে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ কম।

পরিমাণের দিক থেকে, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ১০ শতাংশ বা ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউনিট; যা গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ইউনিট ছিল। চলতি বছরের আট মাসের মধ্যে কেবল জানুয়ারি ও জুলাই মাসেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ওটেক্সার তথ্যমতে, আলোচ্য ৮ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীনের পোশাক রপ্তানি ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১০ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক ভিয়েতনামের রপ্তানিও ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ৯ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে পাকিস্তানের রপ্তানি কমেছে ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের পোশাক রপ্তানি ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে নীতি সুদ হার বাড়াচ্ছে। উচ্চ সুদহারের কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিমা অনেক দেশই অর্থনীতির এমন সংকটে রয়েছে। এসব কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে। তবে বছরের শেষ নাগাদ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে শুধু রপ্তানি আয় নয়, পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্সও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-  সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫১১ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত