পোশাক খাত

১৭৫৬৮ টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব সিপিডির

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩৮ এএম

পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে নির্ধারণ করা পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা। মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সিপিডি ৯ হাজার ৫৬৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন এই ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে।

সিপিডি বলছে, বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রতি পোশাকে বাড়তি সাত সেন্ট দেয়, তাহলে এই মজুরি দিতে কারখানা মালিকরা চাপে পড়বেন না। সংস্থাটি ৭৬টি কারখানার ২২৮ শ্রমিকের ওপর গবেষণা করে এই প্রস্তাব দিয়েছে।

গতকাল রবিবার সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের যৌথ আয়োজনে ‘গার্মেন্টস খাতে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ : পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক হয়। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ২৭ শতাংশ কারখানা মালিক মনে করেন, ১২ হাজার টাকা এবং এর ওপরে প্রায় ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে পারেন। শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা চেয়েছেন। আবার শ্রমিক সংগঠনগুলো ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের প্রস্তাব করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রেড সেভেনের জন্য ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করছি ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা। আমরা মনে করি গ্রেড সেভেনে একজন পোশাকশ্রমিকের এতটুকু পাওয়া প্রয়োজন।’

এর আগে পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তামিম আহমেদ। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে যখন মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে, সে সময় এসে এই মজুরি নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার-সংক্রান্ত নীতিমালার আলোকে এই ন্যূনতম মজুরিকে দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

তামিম জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের ৭৬ পোশাক কারখানার ২২৮ শ্রমিকের ওপর জরিপ করে এই গবেষণাটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই খাতের ছয় অংশীজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াসহ অন্যান্য দেশের চেয়ে পোশাকশ্রমিকদের আমরা কম বেতন দিচ্ছি। ২০১৮ সালের যে মজুরির কথা বলা হলো সেটা গত পাঁচ বছরের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা যদি দেখি, তাহলে দেখব সম্যকভাবে বাস্তবায়নের জায়গায় বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। পাঁচ বছরে এটার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।’

সিপিডির এই গবেষক বলেন, ৪২ দশমিক ১ শতাংশ ফ্যাক্টরিতে গ্রেডিং সিস্টেমটাই নেই। যদিও গ্রেডিং সিস্টেম অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। বিজেএমইএ, বিকেএমিইএর মেম্বার না এমন কারখানায় এই নন-গ্রেডিং সিস্টেমটা বেশি।

২৮ শতাংশ শ্রমিক গ্রেডিং সিস্টেম সম্পর্কে জানে না জানিয়ে তিনি বলেন, ৩১ শতাংশ শ্রমিক জানে না তারা কোন গ্রেডে কাজ করছে। আবার ৩০ শতাংশ কারখানা-সংশ্লিষ্টরাও এই গ্রেডিং সম্পর্কে জানে না। ২০১৯ সালের পরে যোগদান করেছে, তাদের আট হাজার টাকার নিচে পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ শ্রমিক জানায়, তাদের বেতন আট হাজার টাকার নিচে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি ১৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে এ খাতে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব ছিল জানিয়ে তামিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি ২০২৩ সালে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ কারখানা এমএফএস বা ডিএফএস ব্যবহার করে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ। শ্রমিকদের একটা বড় অংশ নগদে চাচ্ছে তাদের বেতনটা। ৮০ শতাংশ শ্রমিকের এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকার পরও কেন তারা নগদে নিচ্ছে এটি বড় ভাবনার জায়গা।’

ব্র্যান্ডগুলোরও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অবহেলা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ হওয়ার পর গড়ে মাত্র ১২ শতাংশ ব্র্যান্ড বেতনের সঙ্গে প্রাইস অ্যাডজাস্ট (মূল্য সমন্বয়) করেছে। কারখানা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামীতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হলে ৯ শতাংশ ব্র্যান্ড সমন্বয়ে এগিয়ে আসবে। কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর ন্যূনতম বেতন নিশ্চিত হচ্ছে কি না সেটা দেখে। চলতি বছর ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটা হয়েছে বাকি ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই অধিদপ্তরের লোকজন কারখানায় গিয়ে বেতনের কথাটা বলেনি।

ক্রিশ্চিয়ান এইডের অন্তর্বর্তী কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, বিকেএমইএর এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত